১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংসদের বিশেষ অধিবেশন, সমালোচনা অধীরের
-
অধীর রঞ্জন চৌধুরী
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে। এতে মোট ৫টি বৈঠক হবে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আজ (বৃহস্পতিবার) এক বার্তায় বলেছেন, অমৃত কালের সময় সংসদে অর্থপূর্ণ আলোচনা এবং বিতর্কের জন্য অপেক্ষা করছি।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে রাজ্যসভার এমপি এবং শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে বলেছেন, ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্সব গণেশ চতুর্থীর সময় অধিবেশন ডাকা দুর্ভাগ্যজনক! বিশেষ সভার আহ্বান হিন্দু অনুভূতির পরিপন্থী।
পাঁচ দিনের ওই বিশেষ অধিবেশনে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ভারতকে উন্নত দেশের তালিকায় নিয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে একদিকে। আবার, বিশেষ অধিবেশন ডেকে কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিল পাস করিয়ে নিতে চাচ্ছে বলেও জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে মোদী সরকার এই সম্মেলনকে ভারতের একটা বিরাট বড় সাফল্য হিসেবে দেখাতে চায়। আগামীদিনে এই সম্মেলনকে হাতিয়ার করে ভারত বিশ্বগুরু এবং মোদী সেই ভারতের নায়ক, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাবমূর্তি তুলে ধরে প্রচারে যেতে চায়। সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট কৃতিত্ব দিতে বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী ৮/১০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন বসছে। এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে যখন, তখন সুপ্রিম কোর্টে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। উপত্যকায় নির্বাচন করাতে তাদের কোনও আপত্তি নেই বলে অবশ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু উপত্যকাকে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর প্রশ্নে সরকারের অবস্থান এখনও স্পষ্ট হয়নি। সেজন্য পাঁচদিনের বিশেষ অধিবেশন ঘিরে জল্পনা ছড়াচ্ছে। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে কংগ্রেস। সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি বলেছেন, আমাদের এই বিষয়ে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। সরকার ১৮/২২ সেপ্টেম্বর সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছে। অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, এই লোকেরা তাদের ইচ্ছানুযায়ী সংসদ চালাচ্ছে। এমন জরুরি অবস্থা কী, কারণ শীতকালীন অধিবেশন তো হতেই হবে। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য কী, জানি না। প্রধানমন্ত্রী মোদীর হয়তো নতুন কিছু ভাবনা থাকবে। পুরনো ভবন থেকে নতুন ভবনে চলে যাওয়া। পুজোপাট করা ইত্যাদি-ইত্যাদি। কোনও চমকদার কিছু করা। আপনার ভিন্ন চিন্তা থাকতে পারে, কিন্তু এটা অদ্ভুত মনে হয়। ‘নির্বাচনের কারণে এ সরকার নতুন কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করবে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা থাকবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরিয়ে দেওয়ার জন্য এই লোকেরা সম্ভাব্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অবস্থা খারাপ হতে চলেছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন লোকসভায় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শেষে মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা এবং মিজোরামে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/৩১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।