তৃণমূল এমপি সাসপেন্ড
সংসদে নিরাপত্তা ইস্যুতে ব্যাপক তোলপাড়; বিরোধীদের হট্টগোল, অধিবেশন মুলতুবি
-
ডেরেক ও\'ব্রায়েন
ভারতীয় সংসদে নিরাপত্তা ইস্যুতে আজ বিরোধী এমপি’রা ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল এমপি ডেরেক ও'ব্রায়েনকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের বাকি অংশ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাজ্যসভার কাজকর্মে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ডেরেক ও'ব্রায়েন সংসদে নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে আলোচনার দাবি জানাচ্ছিলেন।
আজ বেলা ১১ টায় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা ও উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার কাজকর্ম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের ফলে অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়। লোকসভার অধিবেশন বেলা ২টা পর্যন্ত এবং রাজ্যসভার অধিবেশন বেলা ১২টা পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। বিরোধী এমপিরা সংসদের নিরাপত্তায় ত্রুটি থাকার অভিযোগে আজ সংসদে একনাগাড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেন এবং জোরালো কণ্ঠে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন। তারা এ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি জানান। তাদের দাবি সংসদের নিরাপত্তা ত্রুটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, গতকালের ঘটনার দায় লোকসভা সচিবালয়ের। লোকসভার স্পিকার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। আমি আপনাদের সাথে বসে আলোচনা করব। গতকালও আলোচনা হয়েছিল। আবারও আলোচনা হবে। এ ব্যাপারে সরকারের কিছু করার নেই। ওম বিড়লা বলেন, সরকার সচিবালয়ের কাজে হস্তক্ষেপ করে না।
আজ সংসদে গতকালের ঘটনার জবাব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ সময়ে বিরোধীরা তুমুল চিৎকার করতে থাকেন। রাজনাথ সিং বলেন, এটা গতকালের ঘটনা, সবাই এর নিন্দা করেছেন। স্পিকার অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের সকল সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে, যারা ভবনের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন লোকদের আমরা যেন পাস না দিই। অন্যান্য যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তাও নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। ঘটনার নিন্দা করা উচিত। এখন সংসদের অভ্যন্তরে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনো যৌক্তিকতা নেই।
প্রসঙ্গত, গতকাল (বুধবার) দুপুর ১টা নাগাদ লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন আচমকাই দর্শক আসন থেকে নীচে ঝাঁপ দেন দুই যুবক। এরপর তারা একের পর এক বেঞ্চ টপকে স্পিকারের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন এবং স্প্রেয়ারের সাহায্যে তাদের জুতোর মধ্যে থাকা হলুদ ধোঁয়া ছড়িয়ে দেন। এরফলে ঘন হলুদ ধোঁয়ায় ঢেকে যায় লোকসভার মূল অধিবেশন কক্ষের একাংশ। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এমপিরা। এ সময়ে হনুমা বেনিওয়াল এবং মালুক নাগর ওই দুই যুবককে ধরে ফেলেন। তার পর তাদের নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংসদের বাইরেও থেকেও পাকড়াও করা হয় দু’জনকে। ওই ঘটনায় প্রথমে সাগর শর্মা, মনোরঞ্জন ডি, অমল শিন্ডে এবং নীলম দেবী নামে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আরেক সহযোগী ভিকি শর্মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, গতকালের ঘটনার পর সংসদ ভবন এবং এমপিদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধী দলীয় এমপিরা। অন্যদিকে, সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটির ঘটনায় গতকাল রাতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।