ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের গতি বাড়ানোর উপর জোর দিলেন মীনাক্ষী মুখার্জি
-
মীনাক্ষী মুখার্জি
পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের যুব সংগঠন ‘ডিওয়াইএফআই’য়ের নেত্রী ও রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখার্জি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের গতি বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন। এজন্য তিনি যশোর রোড সম্প্রসারণে রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
গতকাল (রোববার) সন্ধ্যায় সীমান্ত শহর বনগাঁয় এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে মীনাক্ষী মুখার্জি উগ্রহিন্দুত্ববাদী আরএসএস-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তৃণমূল ও বিজেপি আরএসএসের বাড়িতে ঘর জামাই রয়েছে বলে কটাক্ষ করেছেন।
মীনাক্ষী মুখার্জি পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই স্থলবন্দর হল বাংলাদেশের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যের লাইন। যশোর রোড যদি চওড়া করে দিত তাহলে আরও কম সময়ে আরও বেশি বাণিজ্যের গাড়ি যাতায়াতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে ব্যবসার দিক থেকে, অর্থনৈতিক দিক থেকে আরও একটু বাড়াতে পারত। কিন্তু যশোর রোড প্রশস্ত করা হচ্ছে না। পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দৈনিক ৫৬০/৫৭০টা বাণিজ্যের পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করত, কিন্তু বর্তমানে ২৫০/২৬০টি ট্রাক যাতায়াত করছে। আমাদের দেশের উৎপাদিত জিনিস বাংলাদেশে যাবে সেজন্য নতুন কোনও ভূমিকা নেই।’
রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারকে টার্গেট করে ‘ডিওয়াইএফআই’ নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জির অভিযোগ- (বনগাঁ শহরের ওপর দিয়ে যাওয়া) যশোর রোড প্রশস্ত হলে ফেনসিডিল সিরাপ, গরু পাচার, চোরাচালান বন্ধ হবে সেজন্য যশোর রোডকে ছোটো করে রাখা হয়েছে।
বিজেপির কয়েকজন জনপ্রতিনিধি তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপি আরএসএসের বাড়িতে ঘর জামাই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মীনাক্ষী। তিনি বলেন, এখানে মুকুল রায়, কৃষ্ণ কল্যাণী, বিশ্বজিৎ দাস এরা কেউ বিধানসভার ভিতরে বিজেপি, আবার বাইরে তৃণমূল! অন্যদিকে, অর্জুন সিং সংসদের মধ্যে বিজেপি, বাইরে তৃণমূল! এভাবে ওরা সবক’টা আরএসএসের বাড়িতে ঘর জামাই আছে বলে মন্তব্য করেন ‘ডিওয়াইএফআই’য়ের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখার্জি।
এদিকে, যশোর রোড সম্প্রসারণে রাজ্য সরকারের অনীহার অভিযোগ সম্পর্কে (বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া) বিধায়ক ও বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস ‘ডিওয়াইএফআই’ নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, রাজ্য সম্পর্কে ওনার ধারণা নেই, এটা রাজ্য সরকারের রাস্তা নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের রাস্তা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে বাংলার যা উন্নতি হয়েছে, স্বাধীনতার পরে আর কোনো মুখ্যমন্ত্রী তা করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।