ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
লোকসভা নির্বাচনের আগেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালুর প্রস্তুতি
ভারতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগেই বহুলালোচিত ও বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ/কা/ক্যা) কার্যকর হতে চলেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, এর বিরোধিতায় প্রয়োজনে ফের মাঠে নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ‘সারা অসম ছাত্র সংস্থা’র মুখ্য পরামর্শদাতা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সূত্রে প্রকাশ- ‘আইনের ধারা তৈরি হয়ে যাবে। এক বার ওই ধারা তৈরি হয়ে গেলেই আইনটি কার্যকর করা যেতে পারে এবং যোগ্যদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া যেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার আগেই তৈরি হয়ে যাবে ধারা। ২০১৫ সালের আগে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা অ-মুসলিম শরণার্থীদের দেওয়া হবে নাগরিকত্ব। নাগরিকত্ব পাবেন হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি ও খ্রিস্টান শরণার্থীরা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের দেওয়া হবে নাগরিকত্ব।
তিনি বলেন, 'নিয়ম প্রস্তুত। অনলাইন পোর্টাল তৈরি। গোটা প্রক্রিয়াটি অনলাইনে হবে। কবে ভারতে এসেছিলেন আবেদনকারীদের তা উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনও নথি চাওয়া হবে না।
এদিকে, অসমে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে অসমিয়া জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন সংগঠনের। সারা অসম ছাত্র সংস্থার মুখ্য পরামর্শদাতা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য সম্প্রতি বলেছেন, ‘সিএএ’ নিয়ে আমাদের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট। তা থেকে সরে আসার কোনো কারণ নেই। এবারও ডিসেম্বর মাসে গোটা উত্তর-পূর্বে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ‘কালো দিবস’ পালন করেছে উত্তর-পূর্ব ছাত্র সংস্থা। আমরাও সেই কার্যসূচির অংশীদার ছিলাম’ বলেও মন্তব্য করেন সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য।’
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ফের বিক্ষোভ-আন্দোলন প্রসঙ্গে সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেন, প্রত্যেকটি আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ থাকে, পদ্ধতিও রয়েছে। সবসময় একই ধাঁচে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় না। সর্বদা পথে নেমে আন্দোলন হয় না। যদিও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে প্রয়োজনে ফের রাস্তায় নেমে ‘সারা অসম ছাত্র সংস্থা’ বিক্ষোভ দেখাবে বলেও মন্তব্য করেছেন সারা অসম ছাত্র সংস্থার মুখ্য পরামর্শদাতা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আনা ‘সিএএ’ আইনের অধীনে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান, এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, পার্সি এবং খ্রিস্টান) ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ২০১৯ সালে সংসদে এ সংক্রান্ত বিল পাস হয় এবং পরে এটি রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেয়েছে। কিন্তু বিতর্কিত ওই আইনের বিধি তৈরি না হওয়ায় তা এখনও কার্যকর হয়নি।
২০১৯ সালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা ‘সিএএ’ আইনে ‘মুসলিমদের বাদ’ দিয়ে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা ‘সিএএ’–এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ২৩২টি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের দাবি- তারা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধী নন। কিন্তু ওই আইনে (সিএএ) ‘ধর্মের ভিত্তিতে যে বৈষম্য’ করা হয়েছে, তারা সেই বৈষম্যের বিরোধী। #
এমএএইচ
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।