ভগবানকে নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি: তৃণমূল কংগ্রেস
বিজেপি ভগবানকে নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস।
আজ (রোববার) তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য ওই ইস্যুতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিকে টার্গেট করেছেন। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বহুলালচিত রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ও অন্যদেরকে সমালোচনা করে বলেন, রামচন্দ্রকে শ্রদ্ধা ও পুজো নিয়ে কারো বিতর্ক নেই। কিন্তু ভোটের দিকে নজর রেখে রাজনীতিতে রামচন্দ্রকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ভগবানকে ভগবানের জায়গায় না রেখে নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি।
তিনি বলেন, ‘পুরীর শঙ্করাচার্য নিশ্চলানন্দ সরস্বতী মহারাজ তিনি ধর্মের কথাই বলেছেন যে, একদিকে মন্দির সম্পূর্ণ হয়নি। দ্বিতীয়ত প্রাণ প্রতিষ্ঠা কে করবে? যদি শাস্ত্র মানতে হয়, তাহলে প্রাণ প্রতিষ্ঠা কারা করবেন, কোন পুরোহিত? কোন সেবায়েতরা? তার বদলে যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাও আবার অসমাপ্ত মন্দিরে, সেটা পুরীর শঙ্করাচার্যের বিশ্লেষণে সেটা সঠিক নয়। নরেন্দ্র মোদী পুরীর শঙ্করাচার্যের চেয়ে বড় হিন্দু নন। জেপি নাড্ডা তো পুরীর শঙ্করাচার্যের চেয়ে বড় হিন্দু নন। হিন্দুত্বকে নিয়ে রাজনীতির ব্যবসা করছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। অন্যদিকে, তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য বিজেপি নেতাদের সমালোচনা এরা প্রকৃত ধার্মিক নন বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার বহুলালোচিত রামমন্দিরে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার উৎসব। একই সঙ্গে উদ্বোধন হবে রামমন্দিরের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরেই মম্দিরের উদ্বোধন হবে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকারের রামমন্দিরের উদ্বোধন নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, রামমন্দির উদ্বোধন করে বিজেপি ভোটের মুখে হিন্দু তাস খেলতে চাচ্ছে। অন্যদিকে, পুরীর শঙ্করাচার্য স্বামী নিশ্চলানন্দ সরস্বতী বলেছেন, যারা রাজধর্ম পালন করেন, তাদের উচিত সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে রাজধর্ম পালন করা। যারা ধর্মশাস্ত্র পালন করেন, তাদের ধর্মশাস্ত্র পালন করাই উচিত। রাজধর্মের লোক ধর্মীয় শাস্ত্র আচার-আচরণ পালন করতে গেলে সমস্যা হয়। এরআগে পুরীর শঙ্করাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্দির উদ্বোধন করবেন। সেখানে আমি গিয়ে কী করব। আমি কী শুধু দাঁড়িয়ে হাততালি দেওয়ার জন্য যাব? শনিবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমার পদমর্যাদার কারণেই আমি ওখানে যাব না। ওই ইস্যুতে বিরোধীদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতারাও বিজেপি নেতাদের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।