কাশ্মির সীমান্তে যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নত করছে, গোলাবারুদের মজুদ গড়ছে ভারত
https://parstoday.ir/bn/news/india-i20938-কাশ্মির_সীমান্তে_যুদ্ধ_প্রস্তুতি_উন্নত_করছে_গোলাবারুদের_মজুদ_গড়ছে_ভারত
কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ৭৭৮ কিলোমিটার সীমান্তে যুদ্ধ প্রস্তুতি অব্যাহতভাবে উন্নত করছে ভারতীয় বাহিনী। একই সঙ্গে নতুন করে সেনা মোতায়েন এবং সীমান্তবর্তী অবস্থানের কাছাকাছি এলাকায় জ্বালানি ও গোলাবারুদের মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬ ১০:০২ Asia/Dhaka
  • কাশ্মির সীমান্তে যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নত করছে,  গোলাবারুদের মজুদ গড়ছে  ভারত

কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ৭৭৮ কিলোমিটার সীমান্তে যুদ্ধ প্রস্তুতি অব্যাহতভাবে উন্নত করছে ভারতীয় বাহিনী। একই সঙ্গে নতুন করে সেনা মোতায়েন এবং সীমান্তবর্তী অবস্থানের কাছাকাছি এলাকায় জ্বালানি ও গোলাবারুদের মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় ভারত নজিরবিহীন অস্ত্র মজুদ করছে অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ  হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার পরই এ খবর দিলো ভারতীয় সংবাদপত্র। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে নওয়াজ বলেছেন, ভারতের এমন তৎপরতা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান।

ভারতের সংবাদপত্রে আজ (শুক্রবার) প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় রদবদল এবং সংশোধনের মাধ্যমে জরুরি যুদ্ধকালীন ভারতীয় পরিকল্পনাকেও নিখুঁত করা হচ্ছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী বা  আইএএফ’র  সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সব কাজ চলছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে হলে কী করা হবে সে বিষয়ে বিশদ পরিকল্পনা মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় মানচিত্র ব্যবহারের পাশাপাশি বালু দিয়ে তৈরি মডেলও উপস্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির গত দু’দিন বৈঠক হয়েছে। এ সব বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সেনা অভিযানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী ধরণের সামরিক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব তা নিয়েও বৈঠকে কথা-বার্তা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদপত্র।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কথিত গেরিলা প্রশিক্ষণ শিবিরগুলোতে গোপন বা সরাসরি হামলা নিয়ে আলোচনার খবরও ভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। অবশ্য, ভারত ঠাণ্ডা মাথায় হিসাব কষে পদক্ষেপ নিতে চাইছে বলে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব খবরে উল্লেখ করা হয়। ভারত দাবি করছে- কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় নি বলে এ পথ অনুসরণ করছে দিল্লি। 

২০০১ সালে ভারতীয় সংসদে সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের যে ধরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল এবার সে রকম করা হচ্ছে না। ভারত বলছে- সে ধরণের কোনো পরিকল্পনা তাদের হাতে নেই। বরং পাকিস্তানের  বিরুদ্ধে সীমিত পর্যায়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চাইছে ভারত। এসবের মধ্যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ১৫৫ মিলিমিটার কামানের ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা, রকেট এবং ব্রাহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা করা বা জঙ্গিবিমান দিয়ে দ্রুত হামলা চালিয়ে সরে পড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

ভারতীয় সামরিক সূত্র বলছে, আন্তঃসীমান্ত অভিযানের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। সীমান্তের কাছাকাছি হামলা চালাতে হলে ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর ‘ঘাতক প্লাটুন’ ব্যবহার করা হবে। আর সীমান্তের বেশি ভেতরে হামলায় ব্যবহার হবে ভারতীয় কমান্ডো প্যারা-স্পেশাল ফোর্স। অবশ্য এরইমধ্যে অতিরিক্ত দু’টি সেনা ব্রিগেডকে দক্ষিণ কাশ্মিরে মোতায়েন করা হয়েছে।#  

পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৩