লেফটেন্যান্ট ওমর ফৈয়াজ হত্যায় ভারতীয় এজেন্সি জড়িত: হিজবুল মুজাহিদীন
-
লেফটেন্যান্ট ওমর ফৈয়াজের কফিনে সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধা নিবেদন
জম্মু-কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওমর ফৈয়াজ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরিলা সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীন। একইসঙ্গে ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতীয় এজেন্সিকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।
জম্মু-কাশ্মির পুলিশের পক্ষ থেকে ওমর ফৈয়াজ হতায় হিজবুল মুজাহিদীনের তিন সদস্য জড়িত বলে যে দাবি করা হয়েছে হিজবুল মুজাহিদীনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে সালাউদ্দিন বলেছেন, লেফটেন্যান্ট ফৈয়াজ হত্যায় তাদের কোনো সদস্য জড়িত নয়। এ ধরণের হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয়।
হিজবুল মুজাহিদীন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন ওই হত্যার নেপথ্যে ভারতীয় এজেন্সির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় এজেন্সির আসল চেহারা যাতে প্রকাশ্যে না আসে সেজন্য হিজবুল মুজাহিদীনের ওপরে ওই হত্যার অভিযোগ চাপানো হচ্ছে।’
তার দাবি, গেরিলাদের বদনাম করার জন্য ভারত আইএসআইএসের মতো গোষ্ঠী তৈরি করার চেষ্টা করছে। কাশ্মিরের আজাদির লড়াইয়ে আল কায়েদা, আইএসআইএস এবং তালিবানের কোনো হাত নেই।
লেফটেন্যান্ট ওমর ফৈয়াজ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত শুক্রবার জম্মু-কাশ্মির পুলিশ সন্দেহভাজন তিন হিজবুল মুজাহিদীন গেরিলার ছবি প্রকাশ করে। দক্ষিণ কাশ্মিরের কয়েকটি এলাকায় অভিযুক্তদের ছবি সম্বলিত পোস্টার দেয়া হয়। এদের সন্ধান দিতে পারলে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। এরপরেই হিজবুল মুজাহিদীন প্রধানের বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে।
দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ান জেলায় গত মঙ্গলবার রাতে কাশ্মিরি তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওমর ফৈয়াজ নিহত হন। ওমর তার মামা মুহাম্মদ মকবুলের মেয়ের বিয়েতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ‘গেরিলারা’ তাকে অপহরণ করে এবং বুধবার সকালে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়।
লেফটেন্যান্ট ওমর ফৈয়াজের হত্যাকে কাপুরুষোচিত বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে ছয় সন্ত্রাসীর কথা জানানো হয়। হত্যার ঘটনায় জড়িতরা লস্কর-ই-তাইয়্যেবা ও হিজবুল মুজাহিদীনের সদস্য বলেও বলা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশও ফৈয়াজের অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় হিজবুল মুজাহিদীন জড়িত বলে জানায়।
এদিকে, সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা সঞ্জীব ভট্ট ওই ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ডোভাল অ্যান্ড কোম্পানি’র লোকদের হাত নেই বলে সংশয় প্রকাশ করায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেছেন, আমরা কী আসলেই জানি যে, লেফটেন্যান্ট ফৈয়াজকে কে হত্যা করেছে?
গুজরাট দাঙ্গার সময় রাজ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়েছিলেন আইপিএস কর্মকর্তা সঞ্জীব ভট্ট। হলফনামায় তিনি বলেন, ২০০২ সালে গোধরার ঘটনার পরে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, হিন্দুরা যেন তাদের রাগ দেখানোর সুযোগ পায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য সঞ্জীব ভট্টর ওই দাবি নাকচ করে দেয়।
পরবর্তীতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং ২০১৫ সালে তাকে সম্পূর্ণ বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিতির কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। সঞ্জীব ভট্ট অবশ্য একতরফা তদন্তে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে দাবি করে ওই ঘটনা তার কাছে প্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৪