‘মেজর গগৈকে পুরস্কৃত করে ভারতীয় সেনাবাহিনী মানবাধিকারকে অপমান করেছে’
-
ফারুক দারকে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে বেঁধে ঘুরিয়েছিলেন মেজর গগৈ
জম্মু-কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর মেজর গগৈকে পুরস্কৃত করে ভারতীয় সেনাবাহিনী মানবাধিকারকে অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত ৯ এপ্রিল ফারুক দার (২৬) নামে এক যুবককে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে বেঁধে ঘুরিয়েছিলেন ওই সেনা কর্মকর্তা। গত সোমবার ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত মেজর লিতুল গগৈকে ‘কমেন্ডেশন কার্ড’ দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক আকার প্যাটেল ওই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তের মুখোমুখি হওয়া কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার অর্থ সেনাবাহিনী নির্দয়, অমানবিক এবং অপমানজনক আচরণের ওই ঘটনাকে বৈধ বলতে চাচ্ছে যা নির্যাতনের সমান।
তিনি বলেন, ফারুক দারকে অপমান ওই অঙ্গীকারের বিরোধী যা ভারত সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে করেছিল।
‘মেজরকে সম্মানিত করা লজ্জাজনক’
অন্যদিকে, হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী বলেছেন, আন্তর্জাতিক আদালতকে মেজর গগৈয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মেজরকে সম্মানিত করা খুব লজ্জাজনক কাজ। এভাবে এক কর্মকর্তাকে সম্মানিত করায় আমাদের দাবিই সঠিক প্রমাণিত যে, এটা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার নীতি এবং একে যদি থামানো না যায় তাহলে মানবজীবনের জন্য তা ক্ষতিকারক হবে।’
সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী ‘মানব-ঢাল’ করার ঘটনাকে কুলভূষণ যাদব মামলার সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়া উচিত।
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় সাবেক নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদবকে পাকিস্তানের সামরিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়ায় আন্তর্জাতিক আদালত তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
আলী শাহ গিলানী মেজর গগৈয়ের পক্ষ নেয়া রাজনীতিবিদের টার্গেট করে বলেন, এ ধরণের ভয়াবহ ঘটনাকে তারা ভুল ব্যাখ্যা করছেন। অসংবেদনশীল মানব-ঢালের ঘটনার জন্য উক্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা ‘হাস্যকর’। এটা দৃষ্টান্তমূলক কাজ নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি মেজর গগৈয়ের অনেক লোকের জীবন বাঁচানোর তত্ত্বকে নাকচ করে দিয়েছেন।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, মেজর কীভাবে জীবন বাঁচিয়েছেন? যেসময় ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল সেময় সেখানকার পরিস্থিতি বেশ শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক ছিল। এটা একটি মনগড়া কাহিনী এবং দোষী কর্মকর্তাকে বাঁচাতে এক ফালতু অজুহাত।
মেজর গগৈ গতকাল তার সাফাইতে বলেন, ওই বাসিন্দাকে জিপে বেঁধে ঘোরানোর ফলে তিনি রক্তপাত ছাড়াই বেশ কিছু জীবন রক্ষা করতে পেরেছেন। তার দাবি, ফারুক আহমেদ দার নামের ওই ব্যক্তি পাথর ছোড়ায় উসকানি দিচ্ছিলেন। তাকে জিপের বনেটের সঙ্গে বেঁধে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে পাথর ছোড়া বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু নিগৃহীত ফারুক আহমেদ দারের দাবি, তিনি ওই দিন ভোট দিতেই পথে বেরিয়েছিলেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি নিজের ভোটার স্লিপও দেখিয়েছেন।
ঘটনার দিন গত ৯ এপ্রিল শ্রীনগর লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ছিল।
তিনি বলেন, আমি ভোট দিয়েছিলাম এবং আপাতদৃষ্টিতে এ জন্যই শাস্তি পেতে হয়েছে।
ফারুক দার জানান, সংশ্লিষ্ট মেজরকে সম্মানিত করা হয়েছে জেনে তিনি খুব অবাক হয়েছেন! তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে কয়েক কিলোমিটার এভাবে টেনে নিয়ে বেড়ানো কী খুব বাহাদুরির বিষয়?#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪