কাশ্মিরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রখ্যাত সাংবাদিক নিহত, ভারত জুড়ে নিন্দার ঝড়
-
সুজাত বুখারী (ফাইল ছবি)
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা প্রখ্যাত সাংবাদিক সুজাত বুখারীকে গুলি করে হত্যা করেছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় শ্রীনগরে ইংরেজি দৈনিক ‘রাইজিং কাশ্মির’র সম্পাদক সুজাত বুখারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
আজ (শুক্রবার) বারামুল্লা জেলায় সুজাত বুখারীর পৈতৃক শহরে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশিষ্টজনদের মধ্যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী নঈম আখতার, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা সাইফুদ্দিন সোজ, স্থানীয় সাংবাদিক ও সামাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, আজ জুমার নামাজ শেষে ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ চত্বরে তার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক সুজাত বুখারির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের রাজনীতিবিদরা। জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, ‘ঈদের আগে সন্ত্রাসের বিভীষিকা ফের কুৎসিত রূপ নিয়েছে। এই অহেতুক সহিংসতার নিন্দা করছি, শান্তি নষ্ট করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে।’
মেহেবুবা তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, কিছুদিন আগেই উনি (সুজাত বুখারি) আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন। মেহেবুবা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সুজাত বুখারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফেরাত প্রার্থনা করেছেন ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সুজাত বুখারীর হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সুজাত বুখারিকে একজন নির্ভীক ও সাহসী সাংবাদিক বলে আখ্যায়িত করেন।
কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, রাইজিং কাশ্মিরের সম্পাদকের মৃত্যুতে আমি মর্মাহত। উনি সাহসিকতার সঙ্গে কাশ্মিরে শান্তির জন্য লড়াই করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ওই ঘটনার নৃশংসতায় আমি মর্মাহত। ওই নৃশংসতা বর্ণনার কোনো ভাষা নেই।
পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষ থেকে কাশ্মিরের এ প্রখ্যাত সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানানো হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ধরণের নিষ্ঠুরতার পক্ষে কোনো সাফাই হতে পারে না এবং যতই এর নিন্দা করা হোক তা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, গণমাধ্যমে প্রকাশ, লস্কর ই তাইয়্যেবার পক্ষ থেকে ওই হত্যার ঘটনাকে কাশ্মিরে স্বাধীনতা আন্দোলনের কণ্ঠস্বরকে চাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার সাইয়্যেদ সালাউদ্দিন ওই ঘটনার আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘মীযান’ পত্রিকার সম্পাদক ডা. মশিহুর রহমান আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাস করি। মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু সেজন্য কাউকে হত্যা করা নিন্দনীয় ও বড় অপরাধ। কাশ্মিরের যে বর্তমান রাজ্য সরকার আছে তাদের কাছে আমাদের বক্তব্য হল, সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে যে ত্রুটি রয়েছে তা খতিয়ে দেখা উচিত। প্রশাসনের এই দুর্বলতা যদি চলতে থাকে তাহলে আগামীদিনে এ ধরণের কোনো খারাপ ঘটনা ঘটতে পারে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হোক।’ #
পার্সটুডে/আব্দুল হাকিম/মুজাহিদুল ইসলাম/১৫