কাশ্মীরে ব্লক উন্নয়ন কাউন্সিল নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা কংগ্রেসের
-
বক্তব্য রাখছেন গুলাম আহমদ মীর
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে আসন্ন ব্লক উন্নয়ন কাউন্সিল (বিডিসি) নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস দল। আজ (বুধবার) কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গুলাম আহমদ মীর দলীয় সদর দফতরে এক সাংবাদ সম্মেলনে ওই ঘোষণা দেন।
গুলাম আহমদ মীরের অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকার কেবলমাত্র একটি দলের স্বার্থে এই নির্বাচন করাচ্ছে। যদি এমন না হয় তাহলে নির্বাচনের ঘোষণার পরেও বিরোধী দলের নেতাদের নিষেধাজ্ঞার মাঝে রাখা হতো না।’
তিনি বলেন, কাশ্মীরে এখনও তার দলের সিনিয়র নেতাদের গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে বা তাদের দলীয় নেতাদের জম্মু থেকে কাশ্মীরে যাওয়ার অনুমতিও দেয়া হচ্ছে না। তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। এসব বিধিনিষেধে এটাই ইঙ্গিত দেয় যে কেন্দ্রীয় সরকারে বসে থাকা বিজেপি সরকার তার কায়েমী স্বার্থ পূরণের জন্য তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন পরিচালনা করছে।
আগামী ২৪ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরে ব্লক উন্নয়ন কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল।
রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি গুলাম আহমদ মীর রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার বিজেপি বাদে অন্য দলের নেতাদের জন্য এমন শর্ত তৈরি করেছে যে তারা তাদের লোকদের মধ্যে যেতেই পারবে না এবং তারা কেউই দলের স্বার্থে প্রচার করতে পারবেন না।
আহমদ মীর বলেন, এটা বুঝতে পারছেন না যে, এমন পরিস্থিতিতে অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের বিডিসি নির্বাচনের জন্য এত তাড়াহুড়োর কী ছিল? যদিও কংগ্রেস সর্বদা পঞ্চায়েতগুলোকে শক্তিশালী করার পক্ষে।
তিনি বলেন, কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ, দোকান খোলা হচ্ছে না, শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। এ থেকে এটা প্রমাণ করে যে কাশ্মীরের পরিস্থিতি খুব খারাপ। এতকিছুর পরেও কংগ্রেস নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু অনেক কংগ্রেস নেতা গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন এবং অনেককের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
কাশ্মীরে পিডিপি ও ন্যাশনাল কনফারেন্স ইতোমধ্যে নির্বাচন বর্জনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। কংগ্রেসই ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একমাত্র বড় বিরোধী দল, যারা নির্বাচনে লড়ছিল। কিন্তু এবার কংগ্রেসও নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পরে বিজেপি ও প্যান্থার্স পার্টি মাঠে রয়েছে। বিজেপি এরইমধ্যে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে।
এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরে ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (বিডিসি) নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে সিপিএমের পলিটব্যুরো কঠোর সমালোনা করে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নির্বাচনের ঘোষণা আসলে ‘গণতন্ত্রের প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। পলিটব্যুরো বলেছে, জম্মু-কাশ্মীরে ‘স্বাভাবিকতা বজায় রয়েছে’, বিশ্বকে এমন বোঝাতেই এভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে গত দু’মাস ধরে সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিকদের চলাফেরা নজিরবিহীনভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বন্দি করে রাখা হয়েছে। সেজন্য এই পরিস্থিতিতে বিডিসি’র নির্বাচন আয়োজন আসলে ‘ভাঁওতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
জম্মু-কাশ্মীরে সমস্ত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মুক্তির মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক কাজকর্মের অধিকার পুনরুদ্ধার হওয়ার পরেই সেখানে কোনো নির্বাচন করা যেতে পারে বলে সিপিএমের পলিটব্যুরো স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছে।
এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘কাশ্মীরে যে স্বাভাবিক অবস্থা নেই, এটা বিশ্ববাসীকে আড়াল করতে, বিশ্বের সচেতন জনগণকে প্রতারণা করতে কেন্দ্রীয় সরকার ওই নির্বাচনের ডাক দিয়েছে। কার্যত কাশ্মীরের জনগণ এই নির্বাচন বয়কট করবে। সেখানকার জনগণের সঙ্গে এই নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ নির্বাচন করতে গেলে প্রাথমিক যে প্রয়োজন তা হল, অবাধে মতপ্রকাশ, অবাধে চলাফেরা করা- এসব কিছুই এখন কাশ্মীরে নেই। এই প্রহসন মোদি সরকার করতে চাচ্ছে মানুষকে ঠকাবার জন্য, বিশ্ব জনমতকে আড়াল করার জন্য। কিন্তু তা পারবে না। কাশ্মীরে তা ব্যর্থ হবে কারণ সেখানকার মানুষ ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না এবং সারা পৃথিবীর জনগণকেও বোকা বানাতে পারবে না।’ #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।