উত্তর-পূর্ব ভারতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ফের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i85295-উত্তর_পূর্ব_ভারতে_নাগরিকত্ব_আইনের_বিরুদ্ধে_ফের_বিভিন্ন_সংগঠনের_প্রতিবাদ
ভারতে করোনভাইরাস মহামারীর কারণে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’র বিরুদ্ধে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার পরে আবারও উত্তর-পূর্বে ওই ইস্যুতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গতকাল (শনিবার) এনডিটিভি হিন্দি ওয়েবসাইটে ওই তথ্য জানানো হয়েছে।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
ডিসেম্বর ১৩, ২০২০ ১২:২০ Asia/Dhaka
  • উত্তর-পূর্ব ভারতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ফের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ

ভারতে করোনভাইরাস মহামারীর কারণে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’র বিরুদ্ধে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার পরে আবারও উত্তর-পূর্বে ওই ইস্যুতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গতকাল (শনিবার) এনডিটিভি হিন্দি ওয়েবসাইটে ওই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরোধিতা করে এবার কালো পতাকা নিয়ে নর্থ-ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (নেসো) অসমের বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ কালো দিবস পালন করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশ, শুক্রবার নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (এনইএসও), খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ), সারা আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএসইউ), নাগা স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এনএসএফ), মিজো জিরলাই পাভাল (এমজেডপি),  ত্বিপ্রা স্টুডেন্টস ফেডারেশনসহ মোট ১৮ টি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। অল মণিপুর স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, গারো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের আটটি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।  এরা পূর্ববর্তী ‘সিএএ’ বিরোধী বিক্ষোভ-আন্দোলনে নেতৃত্বে দিয়েছিল। 

ওই সংগঠনগুলো গতবছর বিক্ষোভ চলাকালীন আটক হওয়া কেএমএসএস নেতা অখিল গগৈয়ের মুক্তির দাবি করেছে। ‘কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি সমিতি,  অল অসম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (এএএসইউ), আসাম জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদ, লাচিত সেনাসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন রাজ্য জুড়ে সমাবেশ করেছে। শিবসাগর থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল যেখানে গত বছর এটির সূচনা করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘সিএএ’ রাজ্যের আদি বাসিন্দাদের পরিচয়, ভাষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরোধী। তাঁরা ওই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার ছাত্র সংগঠন ‘আসু’র প্রধান উপদেষ্টা সমুজ্বল ভট্টাচার্য  সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের সংগঠন নিজ কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করেছে এবং ‘সিএএ’র প্রতিবাদে 'উত্তর-পূর্ব ছাত্র সংগঠন'-এর নেতৃত্বে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যে কালো পতাকা প্রদর্শন করা হয়েছে। 

‘আসু’র সভাপতি দীপঙ্ক কুমার নাথ এবং সাধারণ সম্পাদক শঙ্করজ্যোতি বড়ুয়া এক বিবৃতিতে বলেন,  ‘সরকারকে এই ‘অসম বিরোধী আইন’ প্রত্যাহার করতে হবে। এর কারণে নিরীহ শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন অসমিয়া নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের স্বজন ও ‘আসু’র পক্ষ থেকে সুবিচারের দাবি জানানো অব্যাহত থাকবে।’     

‘আসু’ উপদেষ্টা সমুজ্বল ভট্টাচার্য বলেন,  ‘সিএএ প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশীদের কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড নয়। আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা সমস্ত জেলা সদরে প্রতিবাদ করব। গুয়াহাটিতে পাঁচ সিএএ শহীদদের স্মরণে একটি সভা হবে। তারা নিরীহ মানুষ ছিল এবং এখনও অবধি  সরকার তাদের মৃত্যুর কোনও তদন্ত করেনি। আমরা হাইকোর্টের একজন বিচারকের নেতৃত্বে মৃত্যুর তদন্তের জন্য আমাদের দাবির পুনরাবৃত্তি করছি।’ 

এদিকে, শুক্রবার কৃষক মুক্তি সংগ্রামের নেতা অখিল গগৈ গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অসমের জনগণের কাছে ‘সিএএ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ কারণে আমাদের ‘সিএএ’র বিরুদ্ধে লড়তে হবে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার করতে হবে। এটা যদি আমরা না করতে পারি তাহলে আমরা বাঁচতে পারব না।’

তাঁর দাবি, অসমে ‘সিএএ’ কার্যকর হলে ১.৯০ কোটি বাংলাদেশি হিন্দু নাগরিকত্ব পাবে। কৃষক নেতা অখিল গগৈ গতবছর ডিসেম্বরে ‘সিএএ’ বিরোধী আন্দোলনে সহিংসতায় উসকানিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে, শুক্রবার ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার টাকারজলা ও গর্বাদিবাজারে পৃথকভাবে বিভিন্ন পোস্টার ও কালো পতাকা বহনের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ছাত্র সংগঠন টিএসএফ কর্মকর্তারা। তাঁরা এসময়ে ‘সিএএ’ বাতিলের দাবিতে স্লোগানে সোচ্চার হন। তাঁদের দাবি ওই আইনে উপজাতিদের সংখ্যালঘু করা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে টিএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জন দেববর্মা, সাবেক সভাপতি বিশ্বজিৎ কলই, সম্রাট দেববর্মা, অমিত দেববর্মা, চিরঞ্জিত দেববর্মা, শ্যামলী দেববর্মা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। #        

পার্সটুডে/এমএএইচ/ বাবুল আখতার /১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।