শাহনামার শিক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে ইরান: ফেরদৌসী স্মরণসভায় বিশিষ্টজনদের অভিমত
-
আবুল কাসেম ফেরদৌসীর ভাস্কর্য
ইরানের মহান কবি ও সাহিত্যিক হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসীর স্মরণে ‘শাহনামা: ইরান ভূখণ্ডের প্রতিরোধের মহাকাব্য’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেহরানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইরানের প্রথিতযশা শিক্ষক, গবেষক এবং ভাষা ও সাহিত্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা তাদের আলোচনায় তুলে ধরেন যে, শাহনামা কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, বরং এটি ইরানিদের টিকে থাকার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার অন্যতম প্রধান শক্তি।
শাহনামা ও জাতীয় সংহতি
ইরানের ‘সাংস্কৃতিক নিদর্শন ও মণীষী জাতীয় সংস্থা’র সভাপতি মাহমুদ শালুই বলেন, “ফেরদৌসী তার মহান আত্মা, প্রভাবশালী ভাষা এবং শক্তিশালী চিন্তাধারার মাধ্যমে বহু শতাব্দী ধরে ইরানিদের হৃদয়ে এক স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। শাহনামার শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই ইরানি জাতি সবসময় ঐক্যবদ্ধ ও সমমনা থাকবে।”
বিভেদ ও ভাঙন থেকে সুরক্ষা
পারস্য সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব মীর জালালুদ্দিন কাযযাভী শাহনামাকে এমন এক সৃষ্টি হিসেবে অভিহিত করেন, যা ইরানকে বিভিন্ন সময় বিভেদ ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, “বিদেশি শত্রুদের বিরুদ্ধে ইরানিদের অবিচল থাকা আমাদের ইতিহাসের এক বড় পরীক্ষা। ইতিহাসের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে ইরানিরা বিজয়ী হয়েই ফিরে এসেছে।”
মানবিক ও বিশ্বজনীন আবেদন
ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য একাডেমির সদস্য মোহাম্মদ জাফর ইয়াহাকি বলেন, “বর্তমান সময়ে যখন আমাদের সমাজে সংহতি ও ঐক্যের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তখন শাহনামার শিক্ষা আমাদের পথ দেখাতে পারে। এটি কেবল একটি জাতীয় মহাকাব্য নয়, বরং এর আবেদন বিশ্বজনীন ও মানবিক।”
সংস্কৃতির ঢাল হিসেবে শাহনামা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিজিটিং প্রফেসর এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদ জাফরি দেহাগি বলেন, বহিরাগতদের আক্রমণ মোকাবিলায় ইরান সবসময় একটি নির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করেছে। প্রথমত, সামরিক মোকাবিলা এবং দ্বিতীয়ত, সাংস্কৃতিক সুরক্ষা—যেখানে শাহনামা সবসময় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শ্রদ্ধা
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ (টুইটার) কবি ফেরদৌসীকে ইরানি সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ‘শিখর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “ফেরদৌসী শাহনামার মাধ্যমে ইরানিদের আত্মার মাঝে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। তিনি উদারতা, ন্যায়বিচার এবং প্রজ্ঞার যে আখ্যান রেখে গেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের পথ দেখাবে। তিনি জাতীয় বীর এবং ধর্মীয় বীরদের মধ্যে এক অমর সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন।”
উল্লেখ্য, ইরানের সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৫শে উর্দিবেহেশত (মে মাসের মাঝামাঝি) দিনটি ‘হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসী স্মরণ’ এবং ‘ফার্সি ভাষা রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। শতাব্দীকাল ধরে ফার্সি সাহিত্য ও ইরানের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে জীবন্ত রাখার কারিগর হিসেবে ফেরদৌসীকে বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৫