ইরানের সাথে আরবদের সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করছে আমেরিকা: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জনমতকে বিভ্রান্ত করার মার্কিন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মার্কিন সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিমুখী নীতি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। নাসের কানয়ানি এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমেরিকার কৌশল হচ্ছে এমনভাবে উত্তেজনা ও সংকট সৃষ্টি করা যাতে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৩ জুলাই এক বিবৃতিতে দাবি করেছে কাতার ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির বৈঠকে ইরানের ড্রোন ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে যা কিনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বাস্তবতা হচ্ছে, ইরানে ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকেই মার্কিন সরকার ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু ব্যাপক অপপ্রচার সত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি, আকাশ প্রতিরক্ষা শিল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে বহু গুণে উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরান সম্পর্কে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরের পর পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনী সেন্টকমের নতুন কমান্ডার অ্যালেক্সিস গ্রিনকোভিচ যিনি কাতারে অবস্থিত আল আদিদ মার্কিন বিমান ঘাঁটিরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, তার অন্যতম একটি প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে ইরানের ড্রোন হুমকির মোকাবেলা করা এবং এ অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তিমত্বা ফিরিয়ে আনা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায় একদিকে তারা ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করছে অন্যদিকে কয়েকটি আরব দেশকে নিয়ে তারা ইরান বিরোধী জোট গঠনের চেষ্টার পাশাপাশি ইসরাইলের সহযোগিতায় এ অঞ্চলের দেশগুলোতে তারা হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন সরকার নানা উপায়ে বা কৌশলে ইরানের সাথে বিশ্বের দেশগুলোর সম্পর্ক ও সংলাপ প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার, পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার, ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা এবং আরব দেশগুলোর সাথে ইসরাইলের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
অথচ ইরান অন্য কোনো দেশের ওপর হস্তক্ষেপ না করে পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ইরান বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা ছাড়াই কেবল এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ অঞ্চলে বিদেশিদের সামরিক উপস্থিতির পরিণতি কখনোই ভালো হয়নি এবং অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে এতে করে কেবল নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটেছে। এমনকি মার্কিন মিত্রদের জন্যও ভালো ফল বয়ে আনেনি।
এ কারণে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টির মার্কিন ও ইসরাইলি চেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কেবলমাত্র আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।