ব্রিটিশ রাষ্ট্রদুতকে তিনবার তলব
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপের ইতিহাস বেশ পুরোনো
ইরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন শেরক্লিফকে গত তিন সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। লন্ডন কর্তৃক তেহরানের ওপর নির্বিচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তাকে জানানো হয়েছে যে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।
গতকাল সকালে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এছাড়া এই বাহিনীর প্রধান মোহাম্মাদ রুস্তমী চেশমেহ এবং তেহরান ডিভিশনের প্রধান আহমদ মির্জায়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা ইরানে সম্প্রতি নিহত ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা দমনে কঠোর ভূমিকা রেখেছে বলে ব্রিটেন অভিযোগ করছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষপ এবং নতুন করে লন্ডনের পক্ষ থেকে তেহরানরে ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত শের ক্লিফকে তলব করা হয়।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ বিষয়ক মহাপরিচালক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেন। তিনি ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, কথিত মানবাধিকার ইস্যুতে লন্ডন যে ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তার বিরুদ্ধে একই রকম ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার তেহরানেরও আছে।
লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত ফার্সি ভাষার নিউজ চ্যানেলগুলো ইরানবিরোধী ব্যাপক প্রচারণা চালানোর কারণে এর আগে ৫ অক্টোবর এবং ইরানে চলমান ইস্যুকে কেন্দ্রকরে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য গত ২৪ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।
পশ্চিমা দেশগুলো এবং অভ্যন্তরীণ কিছু অনুচরদের প্ররোচনায় ইরানের কিছু শহরে সহিংসতা অব্যাহত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে এই অস্থিরতাকে আরও তীব্র করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলো আবারও ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তারা এটাকে ইরানের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল এবং ইরান সরকারের কাছ থেকে কিছু সুবিধা আদায় করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপ এবং এসব ষড়যন্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যেমন ২০০৮ সালে ইরানের ১০তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার সঙ্গে ব্রিটেনের হাত থাকার প্রমাণ রয়েছে। এই নির্বাচনের আগে ব্রিটেন তেহরানে সাইমন গাস নামে তার নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠিয়ে নির্বাচনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছিল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ব্রিটিশ সরকার ইরানে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতাকে সমর্থন করার জন্য একটি হস্তক্ষেপবাদী নীতি গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করার লক্ষ্যে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ ব্রিটিশ সরকর তার রাজনৈতিক ও মিডিয়া সরঞ্জামগুলো নগ্নভাবে ব্যবহার করেছে। যদিও এই সময়কালে ব্রিটেন কূটনৈতিক স্থানগুলিতে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিিকভাবে পালন করেনি এবং দেশটির পুলিশ বাহিনীর গাফিলতির কারণে লন্ডনে ইরানের দূতাবাসে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী এবং ব্রিটেনের রাজনৈতিক বিষয়ের ভাষ্যকার ডেবিড মিলার ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর সাম্প্রতিক অবস্থান সম্পর্কে বলেছেন: গল্পের মূল বিষয় হল যে তারা নিষেধাজ্ঞাগুলিকে আরও তীব্র করতে চেয়েছিল এবং তাই ইরানে দাঙ্গা শুরু করেছিল। জেসিপিওএ'র এর বিরোধীরা যারা আলোচনা প্রক্রিয়াকে বানাচাল করতে চেয়েছিল তারা এই পরিস্থিতি থেকে উপকৃত হয়েছে এবং ইরানকে এক ঘরে করার চেষ্টা করছে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।