ইরাকি শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ইরানের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তার বৈঠক
জেনারেল সোলায়মানি হত্যকাণ্ডের বিচার ইরাককে করতে হবে: ইরান
ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার শহীদ লে. জেনারেল কাসেম সোলায়মানির ঘাতকদের বিচার করার দায় ইরাক এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের বিচার বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেয়ার শীর্ষ হোতা হচ্ছে আমেরিকা।
ইরানের মানবাধিকার বিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদের সচিব কাজেম গরিবাবাদি তেহরান সফররত ইরাকের একদল শিক্ষাবিদের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। ইরাকের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল চ্যান্সেলর ও অধ্যাপকদের নিয়ে ইরাকি প্রতিনিধিদলটি গঠিত হয়েছে।
বৈঠকে দুই পক্ষ এ বিষয়ে একমত হন যে, পাশ্চাত্য মানবাধিকারকে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গরিবাবাদি ইরান ও ইরাককে নিষেধাজ্ঞা ও সন্ত্রাসবাদের শিকার দু’টি বড় দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমেকিরাসহ পাশ্চাত্যের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরাকের প্রায় পাঁচ লাখ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগে মারা গেছে।
ইরানের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তা বলেন, ইরান ও ইরাকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হামলার শিকার হয়ে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এসব গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে সেইসব পশ্চিমা দেশ যারা কথায় কথায় মানাধিকারের বুলি আওড়ায়।
সিরিয়া ও ইরান থেকে থেকে সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটেনে ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলায়মানির ভূমিকা স্মরণ করে গরিবাবাদি বলেন, তাকে হত্যা করে আমেরিকা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে; কাজেই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, জেনারেল সোলায়মানি ইরাক সরকারের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বাগদাদে গিয়েছিলেন। কাজেই শহীদ সোলায়মানি হত্যাকাণ্ডের বিচার ইরাকের বিচার বিভাগকে করতে হবে। গরিবাবাদি বলেন, ওই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পর সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেছে কাজেই বাগদাদের উচিত অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন সেনাদের এক ড্রোন হামলায় জেনারেল সোলায়মানি শাহাদাতবরণ করেন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে জেনারেল সোলায়মানিকে হত্যা করা হয়।#
পার্সটুডে/এমএমআই/১৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।