যুদ্ধের আগুন থেকে আমেরিকাও বাঁচতে পারবে না: ইরানের হুঁশিয়ারি
হামাস ৭ অক্টোবর যা করেছে তার সম্পূর্ণ বৈধতা রয়েছে: ইরান
ইরান আমেরিকাকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাশবিক বিমান হামলা চলতে থাকলে ওয়াশিংটনও যুদ্ধের আগুন থেকে বাঁচতে পারবে না। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বৃহস্পতিবার এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি খোলাখুলিভাবে সেইসব মার্কিন কর্মকর্তাকে সতর্ক করে দিতে চাই যারা ফিলিস্তিনের গণহত্যা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার চাই না, কিন্তু যদি গাজায় গণহত্যা অব্যাহত থাকে তাহলে তারাও [মার্কিনীরা] এই আগুন থেকে বাঁচতে পারবে না।”
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আমেরিকাকে ‘নারী ও শিশুসহ নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য’ কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গাজার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য রকেট, ট্যাংক ও বোমা না পাঠিয়ে ওয়াশিংটনের উচিত গণহত্যার পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা।
আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, “গাজায় এখনই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। গাজাবাসীকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে তাড়িয়ে বেড়ানো থেকে এখনই বিরত থাকতে হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হামাসের আত্মরক্ষা করার ও মাতৃভূমি মুক্তির আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। তারা ৭ অক্টোবর যা করেছে তা এই অধিকারের আওতায় করেছে এবং তার পূর্ণ বৈধতা রয়েছে।
তিনি বলেন, কিন্তু আমেরিকা ও তার ইউরোপীয় দোসররা বাস্তবতাকে ঠিক উল্টো করে তুলে ধরছে। তারা আত্মরক্ষার অধিকার ও সন্ত্রাসবাদকে পরস্পরের জায়গায় বসিয়ে দিয়েছে। তারা গাজায় গণহত্যাকে আত্মরক্ষার অধিকার বলে চালিয়ে দিচ্ছে এবং হামাসের মুক্তি সংগ্রামকে সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দখলদারিত্বের নিষ্পেষণে থাকা অন্য যেকোনো দেশের মতো ফিলিস্তিনি জাতিরও প্রতিরোধ আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে, যে আন্দোলনের একটি অংশ সশস্ত্র যুদ্ধ। তিনি বলেন, কাজেই হামাসের ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধকে যারা সন্ত্রাসবাদ বলে ভুল ব্যাখ্যা করছে তাদের ব্যাখ্যা বিশ্বের কোনো স্বাধীনচেতা মানুষ মেনে নেবে না।#
পার্সটুডে/এমএমআই/ জিএমএ আর/২৭