সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক গণ-মিছিল ও জাতীয় সংহতির সমাবেশ
১২ জানুয়ারি ইরানি জাতির প্রবল মুষ্টাঘাতে মার্কিন প্রতারণার সমাপ্তি
-
১২ জানুয়ারির সমাবেশে ইরানি জনগণের সর্বস্তরের ব্যাপক উপস্থিতি
পার্স টুডে – ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এক বার্তায় ১২ জানুয়ারি তথা ফার্সি ২২ দেই তারিখের দেশব্যাপী ব্যাপক গণসমাবেশে ইরানের মহান জাতির বিশাল ভূমিকা ও অংশগ্রহণকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন: ইরানি জাতি তাদের দৃঢ়তা, জাতীয় পরিচিতি ও অটল-অবিচল মনোবল শত্রুদের সামনে তুলে ধরেছে।
ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি ২২ দেই-এর ব্যাপক সমাবেশ উপলক্ষে দেয়া বার্তায় জোর দিয়ে বলেন: ইরানি জাতি নিজেদের শক্তি, মনোবল ও জাতীয় পরিচিতিকে শত্রুদের সামনে প্রকাশ করেছেন। এটি ছিল আমেরিকান রাজনীতিবিদদের জন্য একটি সতর্কবার্তা যাতে তারা তাদের প্রতারণামূলক আচরণ বন্ধ করে এবং বিশ্বাসঘাতক ভাড়াটে অনুচরদের ওপর নির্ভর না করে।
সর্বোচ্চ নেতার বার্তায় ইরানি জাতির উদ্দেশে বলা হয়: আজ আপনারা একটি মহান কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং একটি ঐতিহাসিক দিন সৃষ্টি করেছেন। এই বিশাল ও দৃঢ় সংকল্পে-ভরা সমাবেশ বিদেশি শত্রুদের সেই ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করেছে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ ভাড়াটে অনুচরদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল।
ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বার্তায় আরও জোর দিয়ে বলেন: ইরানি জাতি শক্তিশালী, সক্ষম, সচেতন এবং শত্রু-চেনায় পারদর্শী—এবং সব পরিস্থিতিতে ময়দানে উপস্থিত থাকে।
ইহুদিবাদী–মার্কিন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় সংহতির সমাবেশ সোমবার, ২২ দেই তথা ১২ জানুয়ারি, তেহরানের পাশাপাশি সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রদেশে রাস্তায় নেমে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেন।
২২ দেই-এর র্যালি শুধু একটি সাধারণ রাস্তার সমাবেশ ছিল না; একইসঙ্গে এটি ছিল একটি বিস্তৃত সামাজিক–রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ, যা গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বার্তা তুলে ধরেছে। ইসলামী বিপ্লবের নেতা এই ঘটনাকে “ঐতিহাসিক দিন” এবং “ইরানি জাতির মহান কর্ম” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই উপস্থিতির বিশ্লেষণ দেখায় যে এতে বহুমুখী ও মৌলিক বার্তা নিহিত ছিল।
সারা দেশে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল সামাজিক শক্তি ও জাতীয় পরিচিতির প্রতিফলন। এটি দেখিয়েছে যে ইরানি জাতি সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য ও গণসমাবেশের সক্ষমতা রাখে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যে উল্লেখিত “শক্তিশালী, সক্ষম, সচেতন ও শত্রু-চেনা জাতি”—এই বর্ণনা প্রমাণ করে যে জনগণ তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে স্বাধীন পরিচিতি ও সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি শত্রুদের সামনে তুলে ধরেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তার অন্যতম প্রধান দিক ছিল আমেরিকান রাজনীতিবিদদের প্রতি সতর্কবার্তা। জনগণের উপস্থিতি দেখিয়েছে যে হোয়াইট হাউসের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের নীতি কোনো ফল দেয় না।
২২ দেই-এর র্যালিতে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের আরেকটি গুরুত্ব ছিল জাতীয় সংহতি প্রদর্শন এবং সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্কতা, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। এই উপস্থিতি দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসীদের ওপর নির্ভর করে ইরানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা অসম্ভব—কারণ ইরানি জাতি আমেরিকার রাজনৈতিক প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন এবং বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে সক্রিয় ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া জানান।
২২ দেই-এর র্যালি সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়াও ছিল। জনগণ রাস্তায় নেমে সন্ত্রাসবাদ ও তার পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে জাতীয় নিরাপত্তা ইরানি সমাজের লাল-সীমানা। এই ব্যাপক উপস্থিতি আরও দেখিয়েছে যে নিরাপত্তা হুমকি জনগণকে পিছিয়ে দেয় না; বরং আরও ঐক্যবদ্ধ করে।
শত্রুরা ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল, কিন্তু জনগণের উপস্থিতি সামাজিক পরিসরকে শত্রুর অপব্যবহার থেকে মুক্ত করেছে। এই উপস্থিতি জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে। বাস্তবে, জনগণ তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে শত্রুর যৌথ যুদ্ধকৌশলকে সামাজিক স্তরে ব্যর্থ করেছে।
২২ দেই-এর র্যালিকে একটি বহু-মাত্রিক ঘটনা বলা যায়, যা আমেরিকান রাজনীতিবিদদের জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা—তারা যেন তাদের ইরানবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সংকট সৃষ্টির নীতি বন্ধ করে। এই উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে ইরানি জাতি সংকটময় মুহূর্তে দেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।
এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে ইরানি জাতি তাদের সচেতনতা, শক্তি ও সময়োপযোগী উপস্থিতির মাধ্যমে এখনো দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিরোধক—এবং প্রয়োজন হলে তারা সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করতে সক্ষম। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।