দুই সন্ত্রাসী মুনাফিক গোষ্ঠী মুজাহিদিনে খালক্ বা এমকেও-র কর্মী: ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়
তেহরানে বিদেশি-সমর্থিত দাঙ্গায় জড়িত দুই সন্ত্রাসী গ্রেফতার: জার্মানি থেকে পেত নির্দেশনা!
-
তেহরানে গত ৮ জানুয়ারিতে বিদেশী মদদপুষ্ট দাঙ্গায় আগুন লাগিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার একটি দৃশ্য
পার্স-টুডে: ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে মুজাহেদিন-এ-খালক তথা এমকেও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের প্রত্যেককে জার্মানিতে অবস্থিত এমকেও-র একটি “কমান্ড ব্রিজ” আলাদাভাবে নির্দেশনা দিচ্ছিল।
মন্ত্রণালয় জানায়, আটক ব্যক্তিরা তেহরানে একটি সেফ হাউস স্থাপন করেছিল। জব্দ করা নথি ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা যায়, জার্মানিতে অবস্থানরত তাদের নির্দেশদাতা একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করার এবং শিরশ্ছেদের মতো হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে জার্মানিতে থাকা ওই নির্দেশদাতা অস্ত্র কেনা, সেফ হাউস পরিচালনা এবং সশস্ত্র কার্যক্রমের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য গ্রেপ্তারদের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠিয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র, দুটি কালাশনিকভ রাইফেল ও গুলি, এবং বিশেষায়িত যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
আরেকটি অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে দেশে অনুপ্রবেশ করা একটি সন্ত্রাসী দলকে নিষ্ক্রিয় করে, যারা সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় হতাহতের ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল।
এই সেলটি ৮ জানুয়ারির রাতে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় তেহরান পার্স এলাকায় পুলিশ স্টেশন ১২৬–এ সশস্ত্র হামলায় জড়িত ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা সামরিক মানের অস্ত্র ব্যবহার করে স্টেশন দখল ও অস্ত্রাগার লুট করার উদ্দেশ্যে ৮৫০ রাউন্ডেরও বেশি গুলি ছোড়ে।
এই হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনী বাসিজ সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকসহ কয়েকজন শহীদ হন।
পরবর্তী অভিযানে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে গেলে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। গোলাগুলির সময় এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং চারজনকে আটক করা হয়। অভিযানে তেহরান প্রাদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য আহত হন।
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দাঙ্গার সময় হতাহতের ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করা একটি সন্ত্রাসী দলকে তারা গুড়িয়ে দিয়েছে।
গত মাসের শেষ দিকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয়; দাঙ্গাকারীরা দেশজুড়ে শহরগুলোতে তাণ্ডব চালায়, নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে এবং সরকারি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়।
ইরানি কর্মকর্তারা এই দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মোসাদও মাঠপর্যায়ে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টুইট করেন: “রাস্তায় থাকা প্রতিটি ইরানিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। আর তাদের পাশে হাঁটা প্রতিটি মোসাদ এজেন্টকেও।”
একটি ফারসি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে মোসাদ দাঙ্গাকারীদের উৎসাহ দিয়ে লিখেছে: “একসঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে আসো। সময় এসে গেছে।” তারা আরও যোগ করে যে মোসাদ এজেন্টরা দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে আছে— “শুধু দূর থেকে বা কথায় নয়, আমরা মাঠেও তোমাদের সঙ্গে আছি।” #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।