ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক; জনসমর্থন হারিয়েছে হোয়াইট হাউস
-
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না আমেরিকার জনগণ
পার্সটুডে- যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একাধিক নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই দেশের অধিকাংশ নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।
পার্সটুডে জানিয়েছে- বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য জরিপের ফলাফল এই ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্পটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক সমর্থন পাচ্ছে না এবং মার্কিন সরকার যদি এমন পথে অগ্রসর হয়, তবে জনসমর্থনের ঘাটতির মুখে পড়বে।
এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের শুরুতে তৎকালীন মার্কিন সরকার ৭০ শতাংশেরও বেশি জনসমর্থন আদায় করতে পেরেছিল—যে মাত্রার ঐকমত্য বর্তমানে ইরানের ক্ষেত্রে নেই।
এসএসআরএস ও মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন; ৪৯ শতাংশ বিরোধিতা করেছেন এবং ৩০ শতাংশ কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেননি। একইভাবে, ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের বিরোধিতা সমাজের প্রায় অর্ধেক মানুষের মধ্যে পৌঁছেছে। এমনকি ইরানে বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আবহ তৈরি করার পরও অধিকাংশ উত্তরদাতা সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধী, আর মাত্র ১৮ শতাংশ নাগরিক এর পক্ষে মত দিয়েছেন। এই তথ্যগুলো থেকে এটা স্পষ্ট, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধগুলোর স্মৃতি এখনও মার্কিন জনমতের ওপর ছায়া ফেলছে এবং নতুন সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।
দলভিত্তিক মতামত বিশ্লেষণেও ঐকমত্যের অভাব স্পষ্ট। যদিও রিপাবলিকানদের একটি অংশ সামরিক বিকল্পকে সমর্থন করেছে, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে বিরোধিতা অনেক বেশি। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা বা মানবিক কারণ দেখিয়ে হোয়াইট হাউস যে হস্তক্ষেপের যুক্তি তুলে ধরছে, তা জনমতকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জরিপের তথ্যগুলো থেকে এটা স্পষ্ট, মার্কিন সমাজ নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে খুব কমই আগ্রহী এবং ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের হিসাব-নিকাশে নির্ধারক ভূমিকা পালন করছে। ইরাক যুদ্ধকে তারা একটি কৌশলগত ভুল হিসেবেই দেখে।#
পার্সটুডে/এসএ/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।