পরোক্ষ সংঘাত থেকে মুখোমুখি লড়াই: ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের তিন বছর
https://parstoday.ir/bn/news/world-i157010-পরোক্ষ_সংঘাত_থেকে_মুখোমুখি_লড়াই_ইরান_ইসরায়েল_দ্বন্দ্বের_তিন_বছর
পার্সটুডে: গ্লোবাল কনফ্লিক্ট ট্র্যাকার (জিসিটি) ওয়েবসাইট তাদের এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর উত্তেজনা ও সংঘাতের বিবরণ তুলে ধরেছে। “ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত” শিরোনামের ওই প্রবন্ধে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  
(last modified 2026-02-14T13:49:42+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১৭:০৯ Asia/Dhaka
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট ধ্বংস হয়
    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট ধ্বংস হয়

পার্সটুডে: গ্লোবাল কনফ্লিক্ট ট্র্যাকার (জিসিটি) ওয়েবসাইট তাদের এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর উত্তেজনা ও সংঘাতের বিবরণ তুলে ধরেছে। “ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত” শিরোনামের ওই প্রবন্ধে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  

গাজা যুদ্ধ ও উত্তেজনার সূচনা

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে দুই শতাধিক হামলা চালায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র একই বছরের ২৬ অক্টোবর ইরান-সংশ্লিষ্ট দুটি স্থাপনায় বিমানহামলা চালায় এবং ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওই দুই দেশেই ইরান-সংশ্লিষ্ট আরও ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুথি আন্দোলন এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ লোহিত সাগর ও লেবানন সীমান্ত থেকেও হামলা চালায়, ফলে সংঘাত আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে।

২০২৪: পরোক্ষ যুদ্ধ থেকে সরাসরি হামলা

২০২৪ সালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১ এপ্রিল ইসরায়েল সিরিয়ার দামেস্কে ইরানের কনস্যুলার ভবনে বিমান হামলা চালায়। এতে দুই জেনারেল ও পাঁচ সামরিক উপদেষ্টা নিহত হন। এই ঘটনার জবাবে ইরান তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এটিই ছিল প্রথমবার, যখন ইরান সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

পরে হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইরান ইসরায়েলের দিকে ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর পরপরই ইসরায়েল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২০২৫: ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন ও পারমাণবিক উত্তেজনা

২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি পুনরায় চালু করেন এবং একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর এটাই ছিল দুই দেশের প্রথম সরাসরি সংলাপ।

ইসরায়েল এই আলোচনার বিরোধিতা করে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের গোপন পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে এবং তা তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।

২০২৫ সালের ১২ জুন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানায়, তারা ইরানের প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছে না। পরদিন ইসরায়েল একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এতে পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা লক্ষ্যবস্তু হন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এ হামলাকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেন। জবাবে ইরান ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই অভিযান ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার শেষ প্রচেষ্টা। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনায় বসেছিল, তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটন তেল আবিবের অবস্থানের প্রতি আরও প্রকাশ্য সমর্থন জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও যুদ্ধবিরতি

এক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার পর ২১ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের ফোরদো, ইসফাহান ও নাতাঞ্জের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, এতে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অর্জনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার প্রধান মূল্যায়ন করেন, ইরানের কর্মসূচি মাত্র কয়েক মাস পিছিয়েছে।

২৩ জুন ইরান কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। একই দিনে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। যদিও উভয় পক্ষ একে অপরকে লঙ্ঘনের অভিযোগ করে, তবুও যুদ্ধবিরতি মোটামুটি বহাল রয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৪