জাপানে প্রতারণার রেকর্ড বৃদ্ধি; ‘ভুয়া পুলিশ’ নিয়ে সতর্কতা
পার্সটুডে: জাপান পুলিশের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশটিতে বিশেষ ধরনের ও অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা থেকে সৃষ্ট মোট আর্থিক ক্ষতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে টানা চতুর্থ বছরের মতো নথিভুক্ত অপরাধের সংখ্যাও বেড়েছে, যা জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
জাপানের 'আকিতা প্রিফেকচারের পুলিশ'–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আকিতা প্রদেশে বিশেষ প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতারণা এবং তথাকথিত ‘রোমান্স স্ক্যাম’–এর কারণে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৩ বিলিয়ন ইয়েনের বেশি (প্রায় ৮.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এই প্রথম প্রদেশটিতে ক্ষতির অঙ্ক এক বিলিয়ন ইয়েন ছাড়িয়েছে, যা নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সমগ্র জাপানে এই পরিমাণ ৩২০ বিলিয়ন ইয়েনেরও বেশি ছিল, যা এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে খারাপ পরিসংখ্যান।
জাপানের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধের কৌশল ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যাপক ব্যবহার এবং দ্রুত হারে বেড়ে চলা তথাকথিত ‘ভুয়া পুলিশ’ কৌশল—এসবই প্রতারণা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এই পদ্ধতিতে অপরাধীরা নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভুয়া নথি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
এদিকে, জাতীয় পুলিশ সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৪২টি অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৬ হাজারেরও বেশি বেশি। এমনকি এ সংখ্যা কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের চেয়েও বেশি। 'চুরি' ৫১৩ হাজারেরও বেশি মামলা নিয়ে অপরাধের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে; এই পরিসংখ্যানটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক চাপ এবং অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
জাপান পুলিশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করছে না, বরং সামাজিক আস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিষয়টি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৪