যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i157048-যুদ্ধ_বিভাজন_ও_অনিশ্চয়তা_বহুমুখী_সংকটে_ইসরায়েল
পার্সটুডে: সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েল কেবল গাজা ও পশ্চিম তীরে সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ক্ষেত্রেও গভীর টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক দোষারোপ এবং জনঅসন্তোষ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে।
(last modified 2026-02-15T09:18:02+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ ১৫:১৪ Asia/Dhaka
  • বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং  ইয়োভ গ্যালান্ট
    বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইয়োভ গ্যালান্ট

পার্সটুডে: সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েল কেবল গাজা ও পশ্চিম তীরে সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ক্ষেত্রেও গভীর টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক দোষারোপ এবং জনঅসন্তোষ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে।

পশ্চিম তীরে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কবার্তা

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের কাজের অনুমতি কমে যাওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মীদের বেতন প্রদানে বিলম্বের কারণে জনঅসন্তোষ বাড়ছে।

এ ছাড়া আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে অতীতের মতো আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন শহর ও শরণার্থী শিবিরে সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উপাদান একত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটের জন্ম দিতে পারে।

গাজা যুদ্ধ: ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও ইহুদিবাদী কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, হামাস ধ্বংস এবং বন্দীদের ফিরিয়ে আনার মতো ঘোষিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি। ক্রমাগত যুদ্ধের ফলে প্রাণহানি বেড়েছে, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে- যুদ্ধের মূল্য কি প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে?

নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে বিভাজন

পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরেই মতভেদ প্রকাশ্যে চলে আসা। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের পাঁচ সাবেক প্রধানসহ বহু সাবেক কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অবস্থান নিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, ৭ অক্টোবরের ঘটনার দায় এড়াতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে ওই ঘটনার পূর্ববর্তী প্রস্তুতি ও সতর্কবার্তা নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ফলে সংসদীয় অধিবেশনেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের সংকট

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের মধ্যে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধ রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্ণনার সংঘাতকে উসকে দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো দাবি করছে, হামলার আগে বিভিন্ন সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দ্বন্দ্ব নেতৃত্বের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ

দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব অর্থনীতি ও সমাজেও পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, বাজেটের ওপর চাপ এবং সামরিক ব্যয়ের বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বিষয়ে জনমতের ভেতরেও বিভাজন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই যুদ্ধের কৌশল ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার অন্য একটি অংশ কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে। এই মতভেদ সামাজিক পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

বহুমাত্রিক সংকটের মুখে রাষ্ট্রীয় কাঠামো

নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি, অর্থনৈতিক চাপ এবং যুদ্ধের ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ সামাজিক অসন্তোষকে উসকে দিয়েছে। এই সংকট কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, জনআস্থা এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতি ও আঞ্চলিক অবস্থানের ওপর পড়তে পারে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৫