স্টেম সেল থেরাপিতে বড় সাফল্য: পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসায় বিশ্বে সপ্তম ইরান
-
উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে ইরানের পাঁচ ধাপ অগ্রগতি
পার্সটুডে: ছয়টি নতুন অত্যাধুনিক সেল থেরাপি পণ্যের (এটিএমপি) লাইসেন্স পাওয়ার মাধ্যমে পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইরানের বৈশ্বিক অবস্থান ১২তম স্থান থেকে ৭ম স্থানে উঠে এসেছে।
ইরানের জৈববিজ্ঞান ও স্টেম সেল প্রযুক্তি সদর দপ্তর ঘোষণা করেছে, এই অগ্রগতি এসেছে দেশটির গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক দেশীয় কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার ফল হিসেবে।
নতুন অনুমোদন পাওয়া পণ্যগুলো মূলত কোষচিকিৎসা, টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কার-টি সেল থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এগুলো ভিটিলিগো (সাদা দাগ), গ্রাফট ভার্সাস হোস্ট ডিজিজ (জিভিএইচডি), সেরিব্রাল পালসি (সিপি), গুরুতর দগ্ধ রোগ, ডায়াবেটিক ফুট আলসার, আর্থ্রাইটিস এবং রক্তের ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ১৪৮টি এটিএমপি পণ্য অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ইরানের। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৪০২ সাল পর্যন্ত ইরানে মাত্র একটি এমন পণ্য ছিল। কিন্তু এরপর থেকে ছয়টি নতুন উন্নত কোষচিকিৎসা পণ্য তৈরি ও অনুমোদন পেয়েছে, যা দেশটির অবস্থান দ্রুত উন্নত করতে সহায়তা করেছে।
এই সাফল্যের পেছনে গবেষণা ও উৎপাদন অবকাঠামো শক্তিশালী করা, উন্নত চিকিৎসা পণ্যের তত্ত্বাবধানে ব্যবহারের জন্য জাতীয় প্ল্যাটফর্ম চালু করা এবং ইরানের খাদ্য ও ওষুধ সংস্থা ও ইরানের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়–এর সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত তহবিল ও কর্পোরেট ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মতো নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ইরান শুধু নিজ দেশের রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবে না, বরং আঞ্চলিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৪