জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান: জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার অঙ্গীকার
-
তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান আজ (রোববার) সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটে জামায়াত আমিরের বাসায় যান।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসভবনে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে, জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, তারেক রহমানের এই আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক। তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
আলোচনায় তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলীয় কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি এই আশ্বাসকে স্বাগত জানান এবং প্রত্যাশা করেন, কোনো নাগরিক যেন ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন।
জাতীয় স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে তারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আপসহীন থাকবেন। সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন থাকলেও প্রয়োজন হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা সোচ্চার থাকবেন। তার ভাষায়, তাদের লক্ষ্য সংঘাত নয়, বরং সংশোধন ও গঠনমূলক পর্যবেক্ষণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদ ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং দেশকে স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৫