নিরাপত্তা সম্মেলন থেকে ‘মিউনিখ সার্কাস’: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোপের নির্ভরশীলতার বাস্তব চিত্র
-
মিউনিখ সম্মেলনের বিরুদ্ধে জার্মানিতে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, দুঃখজনকভাবে এবারের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন কার্যত সার্কাসে পরিণত হয়েছে। এই সম্মেলনকে এর আগে সাধারণত একটি গম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখা হতো।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে আরও লিখেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভ্রান্ত অবস্থায় রয়েছে। এই বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো ইরানের অভ্যন্তরে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, সেগুলো বোঝার ক্ষেত্রে ইউরোপের ব্যর্থতা। ইউরোপ যে পথে এগোচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও সংকটপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই অঞ্চলে তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে জার্মানি তার আঞ্চলিক নীতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কার্যত ইহুদিবাদী ইসরায়েলের তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে।
আরাকচি আরও লিখেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় ত্রয়ীর অচলাবস্থা এবং গুরুত্বহীনতা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপ একসময় আলোচনার অন্যতম প্রধান পক্ষ ছিল, কিন্তু এখন তার কোনো কার্যকর উপস্থিতিই আর দেখা যায় না। এর বিপরীতে, অঞ্চলে ইরানের বন্ধুরা এই দুর্বল ও প্রান্তিক ইউরোপীয় ত্রয়ীর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখছে।
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ৬২তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এমন এক সময়ে আয়োজন করা হয়, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা নিজেদের দাবি ও পরিকল্পনা তুলে ধরতে প্রবলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই নির্ভরশীলতার কারণে ইরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ব্রাসেলসকে বাধ্যতামূলকভাবে ওয়াশিংটনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হয়, এমনকি তা ইউরোপের অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক স্বার্থের বিরোধী হলেও তাদেরকে তা করতে হয়।
ইরান এবং অনেক স্বাধীনচেতা বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে, ইউরোপ এখন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের রাজনৈতিক অনুগত শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ইরানের মতো স্বাধীন দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ চালানোর সক্ষমতা ইউরোপ হারিয়ে ফেলেছে এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক পরিবর্তনগুলো বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশ্ব এখন যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত একমেরু ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বহুমেরু ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। ইউরোপ তার ভূরাজনৈতিক ভূমিকা হারিয়েছে, আর এর বিপরীতে ইরান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার ও মিসরের মতো দেশগুলো আঞ্চলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রধান সিদ্ধান্ত-গ্রহণকারীতে পরিণত হয়েছে।#
পার্সটুডে/এসএ/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।