ইরান কেন এই অঞ্চলে বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করে?
পার্সটুডে-ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এই অঞ্চলে বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি সর্বদা উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদেশী বাহিনীর উপস্থিতি সম্পর্কে একটি বার্তায় লিখেছেন যে এই অঞ্চলে বর্হি-আঞ্চলিক বাহিনীর উপস্থিতির ফলে উত্তেজনা কমেনি বরং তীব্রতর হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত ইরানের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আমাদের প্রতিবেশীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে বর্হি-আঞ্চলিক বাহিনীর উপস্থিতি সর্বদা তাদের দাবির বিপরীত ফলাফল বয়ে এনেছে।
হোয়াইট হাউসকে সমর্থনকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা সরকারগুলো বছরের পর বছর ধরে পারস্য উপসাগরে জ্বালানি রুট নিয়ন্ত্রণ, তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থ নিশ্চিত করা এবং এই অঞ্চলের স্বাধীন দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে উপস্থিত রয়েছে। তবে, এই সামরিক উপস্থিতি "নিরাপত্তা" তৈরি করার পরিবর্তে নেতিবাচক পরিণতি এবং সংকট তৈরি করেছে।
ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে মার্কিন হস্তক্ষেপ আমেরিকান এবং পশ্চিমা প্রভাব বজায় রাখার জন্য "বানোয়াট সংকট" এর স্পষ্ট উদাহরণ, অন্যদিকে বাইরে থেকে এই সিদ্ধান্ত এবং হস্তক্ষেপ অঞ্চলের জনগণের চাহিদা এবং সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করার দিকে পরিচালিত করেছে এবং রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতকে তীব্রতর করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে পারস্য উপসাগর বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোনর মধ্যে একটি।তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হিসাবে হরমুজ প্রণালীর অস্তিত্ব বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে সম্ভাব্য নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব ফেলতে পারে।
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে; ইরান এবং তার প্রতিবেশীদের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তি ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে রপ্তানি এবং যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহন রুট সম্প্রসারণ করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শিল্প প্রবৃদ্ধি তৈরি করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে যে প্রকৃত নিরাপত্তা বাইরে থেকে নয় বরং অঞ্চলের ভেতর থেকে আসে। ইরান বারবার বলেছে যে তারা হরমুজ প্রণালী এবং এর নিরাপত্তাকে কেবল নিজের জন্য নয় বরং তার সমস্ত প্রতিবেশীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। ইরানের নীতি সংলাপ এবং সম্মিলিত সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে তৈরি যা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে আস্থা তৈরি এবং অর্থনৈতিক-নিরাপত্তা সহযোগিতার উপর জোর দেয়।
ইরানের পররাষ্ট্র নীতির একটি মূল লক্ষ্য হল আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিদেশী শক্তির প্রভাব হ্রাস করা, যা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে তৈরি করা হবে এবং এই অঞ্চলটি আর বিদেশী হস্তক্ষেপের ঝুঁকিতে থাকবে না।
বিদেশি হস্তক্ষেপ দূর করার ফলে সামরিকবাদের অজুহাত হ্রাস পাবে এবং অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে আঞ্চলিক দেশগুলো সম্মিলিত সংলাপ,যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে জড়িত হলে অস্থিতিশীলতা হ্রাস পেয়েছে। সেই অনুযায়ী ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার এবং কুয়েতের মধ্যে ঐক্য বহিরাগত শক্তির উপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা প্রতিস্থাপন করতে পারে। এই ধরনের সহযোগিতা আঞ্চলিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করবে এবং বর্হি-আঞ্চলিক রাষ্ট্রের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করবে।
ইরান বর্হি-আঞ্চলিক শক্তির, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখে কারণ তারা শান্তির পরিবর্তে প্রতিযোগিতা, অবিশ্বাস এবং প্রক্সি যুদ্ধ বৃদ্ধি করেছে। বিপরীতে, ইরানের সমাধান আঞ্চলিক সহযোগিতা, বিদেশী হস্তক্ষেপ হ্রাস এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আস্থা তৈরির উপর ভিত্তি করে- এমন একটি পদ্ধতি যা পারস্য উপসাগরকে এই অঞ্চলের সকল জাতির জন্য একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল অঞ্চলে রূপান্তরিত করতে পারে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।