ইরানের মাজান্দারান প্রদেশের কান্দালুস গ্রাম: পর্যটনের জন্য আদর্শ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i15694-ইরানের_মাজান্দারান_প্রদেশের_কান্দালুস_গ্রাম_পর্যটনের_জন্য_আদর্শ
কান্দালুস গ্রাম ইরানের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ি উপত্যকায় বিভিন্ন রংয়ের ভেষজ-উদ্ভিদ, ফলের বাগান ও আকাশ-ছোঁয়া সবুজ পাহাড়, প্রাণ-জুড়ানো বিশুদ্ধ বাতাস এবং খনিজ পানির ঝর্ণা- এসব মিলে এক অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য এ গ্রামকে দর্শকদের স্মৃতিপটে চিরকাল জাগ্রত রাখে। অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ছাড়াও এ গ্রামে ভেষজ উদ্ভিদ ও জাতি-তাত্ত্বিক বিষয়ের দুটি জাদুঘর পর্যটকদের জন্য দুটি অসাধারণ আকর্ষণ।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
জুলাই ২৭, ২০১৬ ০৬:৩৮ Asia/Dhaka

কান্দালুস গ্রাম ইরানের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ি উপত্যকায় বিভিন্ন রংয়ের ভেষজ-উদ্ভিদ, ফলের বাগান ও আকাশ-ছোঁয়া সবুজ পাহাড়, প্রাণ-জুড়ানো বিশুদ্ধ বাতাস এবং খনিজ পানির ঝর্ণা- এসব মিলে এক অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য এ গ্রামকে দর্শকদের স্মৃতিপটে চিরকাল জাগ্রত রাখে। অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ছাড়াও এ গ্রামে ভেষজ উদ্ভিদ ও জাতি-তাত্ত্বিক বিষয়ের দুটি জাদুঘর পর্যটকদের জন্য দুটি অসাধারণ আকর্ষণ।

কান্দালুস গ্রামটি কাস্পিয়ান সাগর-তীরবর্তী নওশহরের ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে কেজুর অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলে রয়েছে আকাশ-ছোঁয়া আলবুর্জ পর্বতমালার একটি অংশ। সমুদ্র-সমতল থেকে কান্দালুস গ্রামটির উচ্চতা ১৬৫০ মিটার।

পাহাড়ের ঢালুতে হেলান-দেয়া এই গ্রামের বসত-বাড়ি বেশ ঘন। গ্রামটির রাস্তা এবং অলি-গলি আঁকা-বাঁকা। এইসব রাস্তা এবং অলি-গলি পাথর দিয়ে বাঁধানো। এখানকার অধিকাংশ পুরোনো ঘর-বাড়ি দুইতলাবিশিষ্ট এবং ছাদগুলো উপমহাদেশের টিনের ঘরের মত চালের মত কৌণিক ও ঢালু-আকৃতির, তবে টিনের জায়গায় এখানে সিরামিকের টাইলস ব্যবহৃত হয়। এ গ্রামের বাড়ি-ঘরগুলোর মাটির দেয়াল, ছোট ছোট ব্যালকনি, কাঠের জানালা ও সাদা-মাটা স্থাপত্য গ্রামটির সৌন্দর্য্যকে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। অবশ্য এ গ্রামে আধুনিক মডেলের ঘর-বাড়ির সংখ্যাও কম নয়। এখানকার জনগণ বেশ অতিথিপরায়ন।

২০০৬ সনের হিসাব অনুযায়ী- কান্দালুস গ্রামটির জনসংখ্যা আড়াই হাজার। অবশ্য শীতকালে এখানকার জনসংখ্যা হ্রাস পায় এবং গ্রীষ্মকালে মনোরম ও আরামদায়ক আবহাওয়ার কারণে এ গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। পশুপালন ও কৃষিকাজ এখানকার লোকদের প্রধান পেশা। কেউ কেউ সেবামূলক কার্যক্রম ও হস্ত-শিল্পের সাথে জড়িত। গম, যব, আপেল, পীচফল ও আখরোট এবং ভেষজ-উদ্ভিদ ও ফুল এখানকার প্রধান কৃষি-পণ্য। কার্পেট, মোজা প্রভৃতি হস্ত-শিল্প এখানে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়।

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দেও কান্দালুস গ্রামটির অস্তিত্ব ছিল বলে প্রত্নতাত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে। খ্রিস্ট-পূর্ব ও খ্রিস্ট-পরবর্তী যুগের এবং ইসলাম-পূর্ব ও ইসলাম-পরবর্তী যুগের সভ্যতার অনেক নিদর্শন ধারণ করেছে স্বপ্নিল এই গ্রাম। জরথ্রুস্ত ও ম্যানিশিজম ধর্মমতের অনুসারীদের কবর এবং গোরস্থান ও বিভিন্ন প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় এই অঞ্চলে উন্নতমানের প্রাচীন সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল। ইরানের কাজার বংশের সুলতান নাসিরউদ্দিন শাহ তার ভ্রমণ-বৃত্তান্তে এ অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছেন। ইরানের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী কামাল-উল-মূলক ছিলেন এই ভ্রমণে সুলতান নাসিরউিদ্দিন শাহের সঙ্গী। জনাব কামাল এ গ্রামের যে ছবি এঁকেছিলেন তা ইরানের "সাহেবকারানিয়ে" নামের জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬