ইরানের অধিকার মেনে না নিলে মার্কিন অর্থনৈতিক সংকট কাটবে না: কলিবফ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163566-ইরানের_অধিকার_মেনে_না_নিলে_মার্কিন_অর্থনৈতিক_সংকট_কাটবে_না_কলিবফ
পার্সটুডে: ইরানের অর্থনীতি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ধসে পড়বে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে দেশটির অর্থনীতির ওপর ইরানের চাপ সৃষ্টির বিভিন্ন হাতিয়ার তুলে ধরেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ।
(last modified 2026-10-01T04:31:02+00:00 )
অক্টোবর ০১, ২০২৬ ১০:২৮ Asia/Dhaka
  • মোহাম্মদ বাকের কলিবফ
    মোহাম্মদ বাকের কলিবফ

পার্সটুডে: ইরানের অর্থনীতি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ধসে পড়বে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে দেশটির অর্থনীতির ওপর ইরানের চাপ সৃষ্টির বিভিন্ন হাতিয়ার তুলে ধরেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ।

ইরানের জাতীয় সংবাদ সংস্থার (আইআরআইবি)-এর বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন কলিবফ।

তিনি বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রায় শূন্য সুদে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল। এখন সেই ঋণ পরিশোধের সময় এসেছে। ফলে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে অনেক বেশি সুদের হারে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে।

কলিবফ আরও বলেন, মার্কিন সরকারি বন্ডের ক্রেতাদের সক্ষমতা ও আগ্রহ ক্রমাগত কমছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের বড় ক্রেতা চীন ও জাপান এখন নতুন বন্ড কেনা কিংবা আগের বন্ড ধরে রাখার বিষয়ে আগের চেয়ে কম আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর ফলে মার্কিন বন্ডের মুনাফার হার (ইয়িল্ড) ক্রমাগত বাড়ছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা, জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখা এবং মার্কিন সরকারি বন্ডের মুনাফার হার বৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়কে ক্রমবর্ধমান সংকটের মুখে ফেলেছে। এসব কারণে বেসেন্টের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে উঠছে।

কলিবফের ভাষায়, ইরানের জনগণের অধিকারকে সম্মান করার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও জানান, গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই হার ১৯৯০-এর দশক কিংবা তারও আগের পর্যায়ে ফিরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, নিজের পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের নতুন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডেভিড জারভোসের একটি ছবিও যুক্ত করেছেন কলিবফ। গতকালই তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী বক্তব্যের জন্য পরিচিত জারভোস। উদাহরণ হিসেবে কলিবফ উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগে জারভোস দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানো পর্যন্ত তিনি নিজের চুল ও দাড়ি কাটবেন না।

বেসেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে জারভোসের নিয়োগকে ঘিরে ইতোমধ্যে আর্থিক বাজারের বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হাস্যরস ও বিদ্রূপের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১