পশ্চিম এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে হটানোর সূচনার দাবি আইআরজিসির
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163580-পশ্চিম_এশিয়া_থেকে_যুক্তরাষ্ট্রকে_হটানোর_সূচনার_দাবি_আইআরজিসির
পার্সটুডে- ইরান থেকে মার্কিন সেনাদের বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বলেছে, ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া ‘বৃহৎ শয়তানের আধিপত্যের শৃঙ্খল থেকে পশ্চিম এশিয়ার মুক্তির সূচনা’।
(last modified 2026-10-01T11:10:51+00:00 )
অক্টোবর ০১, ২০২৬ ১৬:৫০ Asia/Dhaka
  • পশ্চিম এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে হটানোর সূচনার দাবি আইআরজিসির

পার্সটুডে- ইরান থেকে মার্কিন সেনাদের বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বলেছে, ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া ‘বৃহৎ শয়তানের আধিপত্যের শৃঙ্খল থেকে পশ্চিম এশিয়ার মুক্তির সূচনা’।

ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার উপলক্ষে দেওয়া আইআরজিসির বিবৃতিতে ইরাক ও পশ্চিম এশিয়ার প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদদের, বিশেষ করে শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও শহীদ আবু মাহদি আল-মুহান্দিস এবং গত দুই দশকে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহত সব যোদ্ধার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এই ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ ইরাকের জনগণ, ঐক্যবদ্ধ ইসলামি প্রতিরোধ ফ্রন্ট এবং বিশ্বের ইসলামি বিপ্লবী যোদ্ধাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার দেশটির স্বাধীনতার জন্য জনগণের দৃঢ় অবস্থানের ফল। ইরাকের জনগণ তাদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, আধিপত্যবাদীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও জনইচ্ছাই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। মার্কিন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ইরাকের প্রতিরোধের সাফল্য এই অঞ্চলের জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আইআরজিসি আরও বলেছে, মার্কিন দখলদার বাহিনীকে বহিষ্কার করা মূলত ইরাকের দৃঢ় সংকল্পের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরাজয়’। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শক্তির ভাষায় কথা বলা যুক্তরাষ্ট্র আজ এমন একটি ভূখণ্ড থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে তারা দুই দশক ধরে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র চলে গেছে—আলোচনা বা অনুগ্রহের মাধ্যমে নয়; বরং এমন একটি জনগণের দৃঢ়তার কারণে, যারা প্রতিরোধ করেছে, এমন যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে যারা জীবন দিয়েছেন এবং এমন এক প্রতিরোধের সংকল্পের কারণে, যা কখনো ভেঙে পড়েনি।’ আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাক এখন ২০ বছরের দখলদারিত্বের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার নতুন সূর্যোদয় প্রত্যক্ষ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই ‘ঐতিহাসিক ও শুভ ঘটনা’ বিশেষ করে শহীদ আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ ইরাকের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধের পথে প্রথম পদক্ষেপ। আইআরজিসির দাবি, আল্লাহর কৃপায় গোটা অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের মাধ্যমে তাদের রক্তের প্রতিশোধ সম্পন্ন হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই পশ্চিম এশিয়া থেকে চলে যেতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এই অঞ্চলের জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। আইআরজিসির মতে, দুই দশকের দখলদারিত্বের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিরাপত্তা আনেনি; বরং পশ্চিম এশিয়ায় অনিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, দুই দশকের সামরিক হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫ হাজার সেনা নিহত এবং প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর দেশটি ইরাক থেকে এমন এক সময়ে প্রত্যাহার হয়েছে, যখন ইরাকি জনগণের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিরূপতা ছিল। আইআরজিসি এই পরিসংখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ধরনের পরাজয় ও লজ্জাজনক ব্যর্থতার’ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার একটি বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা এবং প্রতিরোধ অক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়, ইরাকের জনগণ এই আন্দোলন অব্যাহত রেখে দেশটির অর্থনীতি ও তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপও বন্ধ করবে এবং জাতীয় ঐক্য ও সংকল্পের মাধ্যমে নিজেদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই নির্ভরযোগ্য আশ্রয় বা সমর্থন ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। আইআরজিসির দাবি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা দেখাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র একদিন চলে যাবে এবং নিজেদের দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব জনগণেরই।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, ‘দৃঢ়ভাবে বলা যায়’, ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কার গোটা পশ্চিম এশিয়া ও ইসলামি বিশ্বের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের সূচনা। আইআরজিসির মতে, এই ‘বড় বিজয়’ ইরাকের জাতীয় সংকল্প, প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সংগ্রাম, জনগণের সমর্থন এবং দেশটির সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফল।

বিবৃতিতে ইরাকের সরকার, জনগণ ও প্রতিরোধ বাহিনীকে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র এবং দেশটিতে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে আইআরজিসি ঘোষণা করে, ইরানের জনগণের সন্তান হিসেবে তারা পশ্চিম এশিয়াকে মার্কিন বাহিনীর অবশিষ্ট উপস্থিতি এবং ইসরাইল থেকে ‘মুক্ত’ করার লক্ষ্যে এই অঞ্চলের ‘ন্যায় ও আধিপত্যবিরোধী’ জনগণের পাশে থাকবে এবং ‘পবিত্র জেরুজালেমের পূর্ণ মুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।#
 

পার্সটুডে/এমবিএ/৩১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।