হুমকির দিন শেষ, আগ্রাসনের জবাব হবে আরও কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক: আইআরজিসি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-২’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিনা মূল্যে হুমকি দেওয়ার যুগ শেষ হয়েছে। যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে অনুশোচনামূলক ও যন্ত্রণাদায়ক।’
ইরানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি'র বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ২ অক্টোবর অপারেশন ট্রু প্রমিজ-২-এর ঐতিহাসিক বার্ষিকী। ২০২৪ সালের এই দিনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ বিভাগ ইসরাইলের অধিকৃত ভূখণ্ডে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরোধ ফ্রন্টের নেতা ও কমান্ডারদের হত্যার জবাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। শহীদ নেতাদের মধ্যে ছিলেন ইসমাইল হানিয়া, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং আইআরজিসির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্বাস নিলফোরুশান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার মধ্যে শত্রুপক্ষের আগ্রাসন ও অপরাধের জবাব দিতে পরিচালিত এই অভিযান ছিল একটি কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এটি ইরানি জাতির শত্রুদের, বিশেষ করে ইসরাইলের জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা ছিল যে, বিনা মূল্যে হুমকি দেওয়ার দিন শেষ। যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে কঠোর ও যন্ত্রণাদায়কভাবে।
আইআরজিসি জানায়, এই কৌশলগত অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি, শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হোসেইন সালামি, শহীদ মেজর জেনারেল আমির আলী হাজিহজাদে এবং শহীদ মেজর জেনারেল মাহমুদ বাকেরি। তাঁদের সামরিক পরিকল্পনা, নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পরিচালনাগত সক্ষমতার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ইসরাইল এবং তার সমর্থকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আইআরজিসি আরও দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মিলে তারা শত্রুপক্ষকে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করতে বাধ্য করেছে। এ প্রসঙ্গে ইরানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর ঐতিহাসিক উক্তি—‘আইআরজিসি না থাকলে দেশও থাকত না’—উল্লেখ করে বাহিনীটি নিজেদের জাতীয় শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করে।
বিবৃতির শেষাংশে ইরানের জনগণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ ফ্রন্টের সমর্থক দেশগুলোর জনগণকে আশ্বস্ত করে আইআরজিসি জানায়, তারা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ীর নির্দেশনা অনুসরণ করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন স্থাপনা ও এলাকার ওপর তাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো হুমকি, আগ্রাসন কিংবা ভুল হিসাবের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। প্রয়োজনে অপারেশন ট্রু প্রমিজ-২-এর চেয়েও কঠোর, দ্রুত, যন্ত্রণাদায়ক ও প্রাণঘাতী জবাব দেওয়া হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)
তারিখ: ১০ মেহের ১৪০৫ (২ অক্টোবর ২০২৬)
পার্সটুডে/এমএআর/৩