তাব্রিজের কাবুদ মসজিদ: ইরানের স্থাপত্য বিস্ময়
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i30838-তাব্রিজের_কাবুদ_মসজিদ_ইরানের_স্থাপত্য_বিস্ময়
‘কাবুদ মসজিদ’ ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের তাব্রিজ শহরের একটি বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। কারা কোইনলু রাজবংশের সুলতান জাহান শাহ’র উদ্যোগে ১৪৬৫ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বি সম্প্রদায়ের হাতে নিহত হওয়ার পর তাঁকে এ মসজিদের দক্ষিণাঞ্চলে সমাধিস্থ করা হয়।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
জানুয়ারি ১৩, ২০১৭ ০৯:৫৪ Asia/Dhaka
  • নীল মসজিদ নামে খ্যাতে তাব্রিজের কাবুদ মসজিদ
    নীল মসজিদ নামে খ্যাতে তাব্রিজের কাবুদ মসজিদ

‘কাবুদ মসজিদ’ ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের তাব্রিজ শহরের একটি বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। কারা কোইনলু রাজবংশের সুলতান জাহান শাহ’র উদ্যোগে ১৪৬৫ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বি সম্প্রদায়ের হাতে নিহত হওয়ার পর তাঁকে এ মসজিদের দক্ষিণাঞ্চলে সমাধিস্থ করা হয়।

'কারা কোইনলুর' সম্প্রদায় ১৩৭৫ থেকে ১৪৬৮ সাল পর্যন্ত বর্তমান আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, তুরস্কের পূর্বাঞ্চল এবং ইরাক পর্যন্ত শাসন করেছে।

মসজিদের ভেতরের অংশ

কাবুদ মসজিদে বিচিত্র কারুকাজ আর রঙের চমৎকার ব্যবহার নয়নাভিরাম সুন্দর। বিশেষ করে নীল আর গাঢ় নীল রঙের সাথে ফিরোজা রঙের সমন্বয় এতো চমৎকার যে, এই মসজিদকে অনেকেই ‘ফিরোজা মসজিদ’ কিংবা ‘নীল মসজিদ’ বলে অভিহিত করা হয়।

মসজিদের ছাদে যেসব কারুকাজ করা হয়েছে বিশেষ করে উদ্ভিদ শ্রেণীর যেসব কারুকাজ করা হয়েছে সেখানে সোনার প্রলেপ দেয়া হয়েছে। যার ফলে সামান্য আলোতেও ঝকমক করে।

১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে ভূমিকম্পের ফলে এই মসজিদটির বিরাট অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। সে সময় এর সামনের অংশ ও কয়েকটি খিলান কেবল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। ১৯৭৩ সালে ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক সংস্থার উদ্যোগে মসজিদটির পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

ইতিহাসের বিভিন্ন গ্রন্থে তাব্রিযের কাবুদ মসজিদকে ‘মোজাফফারিয়া ইমারত’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। তুরস্কের বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ কাতেব চালাবি খ্রিস্টিয় সতেরো শতাব্দীতে তার লেখা ইতিহাসগ্রন্থে এই মসজিদটির কারুকাজ, রং এবং আকৃতির ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।

মসজিদের মূল প্রবেশ দ্বারে পবিত্র কুরআনের আয়াত উৎকীর্ণ ছিল। আর এসব আয়াত উৎকীর্ণ করা হয়েছিল তুলুথ ও কুফিক হরফে। মসজিদের মূল অংশের উর্দ্ধভাগে পুরো সুরা আল ফাতাহ লিপিবদ্ধ হয়েছে। দুই গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদের তিন পাশ ঘিরে খিলানের সারি রয়েছে। মসজিদটির দক্ষিণাঞ্চলে দু'টি সুদীর্ঘ মিনার রয়েছে। মসজিদের মূল অংশের প্রবেশ দ্বারে ফার্সি কবিতা উৎকীর্ণ করা হয়েছে।

তৈমুর বংশীয় শাসকদের মহৎ এক শিল্প কর্মের নিদর্শন হয়ে আছে তাব্রিজের এই 'কাবুদ মসজিদ।' আজ এই মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে দেশি-বিদেশি হাজারও পর্যটকের পদভারে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩