সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের প্রতীক সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরানের চিঠি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i37368-সহিংসতা_ও_সন্ত্রাসবাদের_প্রতীক_সৌদি_আরবের_বিরুদ্ধে_ইরানের_চিঠি
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম আলী খোশরো বলেছেন, সৌদি উপ যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুমকি। তিনি বলেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য থেকে ইরানের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসীদের প্রতি রিয়াদের সমর্থনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
মে ০৫, ২০১৭ ১২:৩৯ Asia/Dhaka

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম আলী খোশরো বলেছেন, সৌদি উপ যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুমকি। তিনি বলেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য থেকে ইরানের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসীদের প্রতি রিয়াদের সমর্থনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

ইরানের প্রতিনিধি জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে লেখা চিঠিতে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের প্রতি সৌদি সমর্থনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে বিশেষ করে ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দেয়া ও সেখানে গণহত্যা বন্ধ করতে সৌদি আরবকে বাধ্য করা এখন আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরান 'মুসলিম বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ' করতে চায় এমন অভিযোগ তুলে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান গত মঙ্গলবার সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বক্তব্য রাখেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের একই সময়ে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইরান বিরোধী উগ্র ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া থেকে বোঝা যায়, আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাজমান সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই সৌদি আরব আমেরিকার ইরান বিরোধী নীতির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সৌদি আরবকে সমর্থন দেয়া বিশেষ করে ইয়েমেন যুদ্ধের চোরাবালি থেকে উদ্ধার করার কথা বলে সেদেশে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি করছে। এর সঙ্গে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইরান বিরোধী বক্তব্যের যোগসূত্র রয়েছে। এ ছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরে আসার কথা রয়েছে। তার এ সফরকে সামনে রেখে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান ইরানের বিরুদ্ধে বেশি বেশি বক্তব্য দেয়া শুরু করেছেন যাতে ইয়েমেনে তাদের অপরাধযজ্ঞ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধের ময়দানে ব্যর্থতার বিষয়টিকে আড়াল করা যায় এবং আরো বেশি মার্কিন সমর্থন লাভ করা যায়। এ কারণে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিরোধী শক্ত অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে এবং তেহরানকে শত্রু বলে মনে করছে কিন্তু তাদের এ আচরণের পেছনে যৌক্তিক কোন কারণ নেই। কারণ ইরান কখনই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং উল্টো সন্ত্রাসীদের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের কারণে ইরানই এ পর্যন্ত নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ইরানের সীমান্তে প্রায়ই হামলা চালিয়ে সীমান্তরক্ষীদের হত্যা করছে। কিছুদিন আগেও ইরানের নয় সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছে।

সৌদি আরব মনে করে তাদের টিকে থাকতে হলে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। কারণ এ অঞ্চলে ইরানের গঠনমূলক ও যৌক্তিক নীতিকে সব দেশ স্বাগত জানিয়েছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সৌদি আরব কিছুই করতে পারবে না। কেননা ইরান এ অঞ্চলে ঐক্যের কথা বলছে এবং ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। #             

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৫