সিরিয়ায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে আমেরিকা
কাজাকিস্তানের রাজধানী আস্তানায় সিরিয়া বিষয়ক চতুর্থ দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক সিরিয়ার চারটি এলাকায় সহিংসতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নিরাপদ অঞ্চল গঠনে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
সিরিয়ার মোট ১৪টি প্রদেশের আটটি জুড়ে এই নিরাপদ অঞ্চলের অবস্থান। প্রথম অঞ্চলে রয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব, পশ্চিমাঞ্চলীয় লাতাকিয়া, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় হামা এবং উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো প্রদেশ। দ্বিতীয় নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে হামা প্রদেশের উত্তরাংশ জুড়ে। রাজধানী দামেস্কের কাছে ঘৌতা এলাকায় রয়েছে তৃতীয় নিরাপদ অঞ্চলের অবস্থান। এ ছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা ও কুনেইত্রা প্রদেশের বেশিরভাগ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে চতুর্থ নিরাপদ অঞ্চল।
এর আগে অনুষ্ঠিত সিরিয়া বিষয়ক বৈঠকের সঙ্গে এবারের বৈঠকের পার্থক্য ছিল। বিশেষ করে সিরিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা আস্তানা বৈঠকে প্রভাব ফেলেছিল। এ কারণে আস্তানা বৈঠকের আগেই সিরিয়ার সরকার বিরোধী গ্রুপের প্রতিনিধিরা মার্কিন নীতি অনুসরণ করে বৈঠককে ব্যর্থ করে দেয়ার কাজ শুরু করে। এমনকি ভিত্তিহীন অজুহাতে বিদ্রোহীদের কেউ কেউ আস্তানা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। আবার কেউ কেউ সিরিয়ায় ইরানের ভূমিকার বিষয়ে প্রশ্ন ও আপত্তি উত্থাপন করে। কিন্তু তারপরও শেষ পর্যন্ত তুরস্ক সিরিয়া বিষয়ক সমঝোতা পত্রে সই করে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই সমঝোতাকে স্বাগত জানালেও আস্তানা বৈঠকে ইরানের ভূমিকা গঠনমূলক ছিল না এবং ইরান সিরিয়ায় সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে বলে তারা দাবি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন সময় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে যখন সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিনিধি স্টিফেন দি মিস্তোরা আস্তানা বৈঠকের ফলাফলকে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফল বলে মন্তব্য করেছেন। সিরিয়ায় সংঘাত অবসানে এই সমঝোতা ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের এই প্রতিনিধি আরো বলেছেন, সিরিয়ায় উত্তেজনা নিরসনে নিরাপদ এলাকা গঠনের জন্য যে সমঝোতা হয়েছে তার পেছনে ইরানের অবদান সবচেয়ে বেশি। সব মহল থেকেই ওই সমঝোতাকে স্বাগত জানানো থেকে বোঝা যায়, চুক্তিতে সইকারী দেশগুলো সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। মিস্তোরা বলেন, আস্তানা আলোচনার ব্যাপারে নেতিবাচক কথাবার্তা শোনা গেলেও অর্জিত সমঝোতা থেকে বোঝা যায় সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এগিয়ে চলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমে ইরান ও রাশিয়ার উদ্যোগে মস্কোতে সিরিয়া বিষয়ক আলোচনা শুরু হয় এবং তাতে তুরস্কও যোগ দেয়। সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে প্রথম চুক্তি সই হয়েছিল মস্কোর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে। এরপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে বর্তমানে আস্তানায় নিরাপদ এলাকা গঠনের বিষয়ে সমঝোতা হল। শুরু থেকে এ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত।
যাইহোক, সৌদি আরব ও আমেরিকা সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল গঠন বিষয়ে সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানালেও এর বাস্তবায়ন তারা কতখানি মেনে নেবে বা সহ্য করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে, আস্তানা বৈঠকের সাফল্যে সিরিয়া সমস্যা সমাধানে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। যেদিক থেকেই সমঝোতাকে মূল্যায়ন করা হোক না কেন তাতে রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সমস্যা সমাধানের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। #
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৬