ছয় বছর আগের ঘটনায় আবারো ইরানকে জড়িয়ে আমেরিকার মিথ্যাচার
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i39114-ছয়_বছর_আগের_ঘটনায়_আবারো_ইরানকে_জড়িয়ে_আমেরিকার_মিথ্যাচার
ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত হত্যা প্রচেষ্টার ছয় বছর পর আমেরিকা আবারো ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছে।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
মে ৩১, ২০১৭ ১৪:০৭ Asia/Dhaka
  • ছয় বছর আগের ঘটনায় আবারো ইরানকে জড়িয়ে আমেরিকার মিথ্যাচার

ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত হত্যা প্রচেষ্টার ছয় বছর পর আমেরিকা আবারো ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছে।

আমেরিকার তৎকালীন বিচারমন্ত্রী অ্যারিক হোল্ডার ২০১১ সালের অক্টোবরে প্রথমবার দাবি করেছিলেন, সেদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আদেল আজ জুবায়ের হত্যার যে পরিকল্পনা ইরান করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তা ব্যর্থ করে দিয়েছে। ইসলামী ইরান তখনই ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল অসভ্য লোকদের পক্ষেই এ ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা সম্ভব। কারণ ইরানিদের সংস্কৃতিতে এ ধরণের হত্যাকাণ্ডের কোনো স্থান নেই এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর থেকে আমেরিকা সবসময়ই এ দেশটির সঙ্গে শত্রুতা করে এসেছে এবং যে কোনো অজুহাতে ইরানকে দোষারোপ করতে ছাড়ে না। অথচ ইরান নিজেই আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অব্যাহত ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে আসছে বহুদিন ধরে। সৌদি রাষ্ট্রদূত হত্যাপ্রচেষ্টার প্রায় ছয় বছর পর এখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাথিউস সেদেশের একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে আবারো ওই ঘটনার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন।

ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমন সময় এ দাবি করলেন যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো সৃষ্টিতে রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের হাত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ওয়াহাবি ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সারা বিশ্বে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দায়েশ, আন্‌ নুসরা প্রভৃতি নামে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো  আমেরিকার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সৌদি আরব ও আমেরিকার ভুল নীতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আজ হুমকির মুখে। খোদ মার্কিন কর্মকর্তারা ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের সৃষ্টিতে তাদের হাত থাকা এবং এর পেছনে সৌদি আরবের অর্থ সহায়তার কথা স্বীকার করেছেন। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে সৌদি আরব ও আমেরিকা তাদের অপকর্মগুলো আড়াল করতে পারবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা ও সৌদি আরব সম্মিলিতভাবে ইরানকে ভয়ঙ্কর দেশ হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে  যাতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন ও রিয়াদ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা হত্যাপ্রচেষ্টার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করছে। এ থেকে ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও সৌদি আরবের ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে তারা মূলত এ অঞ্চলে তেহরানের গঠনমূলক ভূমিকাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে। সম্প্রতি রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব-আমেরিকান শীর্ষ বৈঠকের উদ্দেশ্যও ছিল এটাই।

রিয়াদ সম্মেলনে সৌদি আরব ও আমেরিকা ইরানকে সন্ত্রাসীদের সমর্থক বলে  দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরাক, কুয়েত, লেবানন, ওমান ও কাতারের তীব্র বিরোধিতার কারণে সৌদি-মার্কিন ইরানের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারেনি। এ অবস্থায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৌদি আরবকে সন্তুষ্ট করার জন্য ছয় বছর আগে হত্যাপ্রচেষ্টার ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছেন। #                 

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৩১