ইরানের সংসদ ও ইমাম খোমেনী (রহ)'র মাজারে বন্দুকধারীদের হামলা
ইরানের সংসদ মজলিশে শুরা এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (রহ)-এর মাজারে আজ (বুধবার) আলাদা দুইদল বন্দুকধারী হামলা করেছে।
রাজধানী তেহরানে মজলিশে শুরার চত্বরে ঢুকে অন্তত চার বন্দুকধারী নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেসটিভি জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত আট ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধে দু’জন নিহত হয়েছেন।
কোনো কোনো আইনপ্রণেতা বলেছেন, একজন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী সংসদ ঘিরে রেখেছে। সংসদে ঢোকার ও বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তেহরানের এমপি ইলিয়াস হজরতি বলেছেন হামলাকারীদের কাছে দুটি কালাশনিকভ এবং একটি হ্যান্ডগান ছিল। এমপি মেহেদি কিয়াই বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংসদে সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, সংসদের চতুর্থ তলায় ঘেরাও হয়ে পড়া এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছে।
সংসদে হামলার ঘটনায় কোনো এমপি হতাহত হননি।
এদিকে, তেহরানে ইমাম খোমেনী (রহ) মাজারে তিন বন্দুকধারীর একটি দল হামলা করেছে। হামলাকারীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে মাজারে কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের মধ্যে একজন নিহত এবং একজন নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তৃতীয় হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে।
মাজার প্রাঙ্গণ থেকে আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহৃত বিস্ফোরকপূর্ণ পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। পরে একে নিষ্ক্রিয় করে দেয়ার খবরও পাওয়া গেছে। অন্য আরেক খবরে বলা হয়েছে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র পণবন্দি উদ্ধার টিম মাজার থেকে দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে।
গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তেহরানে জোড়া হামলাকে সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আজ তেহরানে সন্ত্রাসীদের কয়েকটি দল ঢুকে পড়েছে।
এর মধ্যে কোনো হামলা চালানোর আগেই একটি দলের তৎপরতা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে। অন্য দু’টি দল সংসদ এবং ইমাম খোমেনী (রহ)-এর মাজারে হামলা করেছে।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/৭