"দায়েশ অবস্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৩ দেশের জন্য সতর্কবার্তা"
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i40490-দায়েশ_অবস্থানে_ইরানের_ক্ষেপণাস্ত্র_হামলা_৩_দেশের_জন্য_সতর্কবার্তা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সিরিয়ার দেইর আজ-জোর প্রদেশে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের সদরদপ্তরে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মধ্যম পাল্লার ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত ৭ জুন তেহরানে সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবে ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
জুন ১৯, ২০১৭ ১৪:১৫ Asia/Dhaka

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সিরিয়ার দেইর আজ-জোর প্রদেশে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের সদরদপ্তরে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মধ্যম পাল্লার ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত ৭ জুন তেহরানে সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবে ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে মোট ৬৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইরানের এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে সিরিয়ায় দায়েশ অবস্থানে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তেহরানে দায়েশের সন্ত্রাসী হামলার ১২ দিন পর আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। গত ৭ই জুন তেহরানে দায়েশের দুটি হামলায় ১৮ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও ৫২ জন আহত হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশটির শক্তিমত্তারই প্রমাণ। সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের ঘাঁটির ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যাপারে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, "এই হামলা থেকে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর শক্তির প্রমাণ পাওয়া যায় অন্যদিকে সৌদি আরব, ইসরাইল ও আমেরিকার জন্যও সতর্ক বার্তা হিসাবে দেখা হচ্ছে এবং এ অঞ্চলে আমেরিকার অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটি থাকায় বিষয়টি তাদের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শত্রুদেরকে বিশেষ করে আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবকে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ করা থেকে বিরত রাখতে ভূমিকা রাখবে। কারণ তারা অভিযোগ করে থাকে ইরান নাকি সিরিয়া ও ইরাকে তৎপর সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে। অথচ সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার অভিযোগ রাজনৈতিক তামাশা বা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ ইরান প্রথম থেকেই আমেরিকা ও সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাক ও সিরিয়ার জনগণকে সহযোগিতা করছে। দায়েশ সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ওপর নিখুঁতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি-মার্কিন সমর্থিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের অবস্থানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

আমেরিকা ও তার মিত্ররা দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বললেও বাস্তবে তারা ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশকে প্রতিষ্ঠিত করার এবং এ অঞ্চলে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিল ভান অ্যাওকিন গ্লোবাল রিসার্চ সেন্টারের ওয়েব সাইটে এক নিবন্ধে লিখেছেন, আমেরিকা দায়েশকে নির্মূল করার জন্য ইরাক ও সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি। কারণ ২০০৩ সালে আমেরিকার ইরাক দখলের ফসল হচ্ছে দায়েশ। লিবিয়া ও সিরিয়ার সরকার পরিবর্তনের জন্য আমেরিকা সেখানে প্রক্সি-যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে দায়েশ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এই হামলার ঘটনা অনেকের জন্য সতর্ক বার্তা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে সিরিয়া সরকারের অনুমতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইরান ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির আওতায় দায়েশ অবস্থানে হামলা চালিয়েছে ইরান। #

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৯