রোহিঙ্গাদের তুলনায় আমার কোনো সমস্যাই হয়নি: চিত্র নির্মাতা মুর্তজা
-
মহসিন রাফসানজানি(কালো কোট পরিহিত)
ইরানের রাজধানী তেহরানের ' তালারে ওহাদাত' (ঐক্য হলে) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৩৬তম ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ হলে মনোমুগ্ধকর কনসার্ট পরিবেশন করা হয়। এর আগে দিন, বুধবার, এ উৎসবের মূল প্রাঙ্গণ, চারসু সিনেমা কমপ্লেক্স প্রদর্শিত হয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে পুরোপুরি ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত ডকুমেন্টারি বা দলিল চিত্র। আধা ঘণ্টার হৃদয়স্পর্শী এ চিত্র নির্মাণ করেছেন ইরানি চিত্র নির্মাতা মুর্তজা আতশ যমযম।
মানবিক এ চিত্র প্রদর্শনীতে তেহরান সিটি কাউন্সিলের প্রধান জনাব মহসিন রাফসানজানি, তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এ কে এম মজিবুর রহমান ভূঁঞা, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সবুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ চলচ্চিত্রকে বাংলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুমিত আর রশিদ। তেহরানে ফার্সি ভাষার ওপর পিএইচডি করছেন তিনি। এ ছাড়া, ছবিতে বাংলায় কণ্ঠ দিয়েছেন খোন্দকার মর্জিনা আক্তার লাভলি।
বিমর্ষ বুদ্ধু দেখার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে যেয়ে জনাব মহসিন রাফসানজানি বলেন, এ সিনেমার মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলমানের দুঃখ-বেদনাকে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের মুসলমানরা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম একটি বৃহৎ এবং সুন্দর নগরীর পরিচলনা করছেন সে আলোকে রোহিঙ্গাদের কি সহায়তা করা সম্ভব রেডিও তেহরানের পক্ষ জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, এ রকম সহায়তার পরিকল্পনা করা হবে। বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মজিবুর রহমান ভূঁঞা এ চলচ্চিত্র পরিপ্রেক্ষিতে নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করতে যেয়ে রেডিও তেহরানে বলেন, বুদ্ধু শান্তির বাণী প্রচার করেছেন এবং তার অনুসারীরা শান্তির পথ অনুসরণ করে থাকেন বলে আমাদের ধারণা। কিন্তু সে দেশে মুসলমানদের ওপর যে বারবার অত্যাচার করা হয়েছে তার গভীরতা সাগরের মতো। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা বাংলাদেশ সরকারের যথাসাধ্য তৎপরতা কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরো বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। খোন্দকার মর্জিনা আক্তার লাভলি এই প্রথম কোনো সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছেন বলে রেডিও তেহরানকে জানান। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতিও তুলে ধরেন তিনি বলেন, বিভিন্ন মিডিয়াতে যখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে খবর প্রকাশিত হচ্ছিল তখন তার খুবই কষ্ট হচ্ছিল। এ চলচ্চিত্রের মান্যগন্য দর্শকের সারিতে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাওলি মাহবুব। রেডিও তেহরানের প্রশ্নের জবাবে বিদগ্ধ এবং সমঝদার শিক্ষাবিদ বলেন, এ ডকুমেন্টারি দর্শকদের কাছে সাংঘাতিক ভাবে আবেদন রেখেছে। এ ধরণের ডকুমেন্টারি আরো তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি অনুভব করেন।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে ইরানে জানা মতে এই প্রথম ডকুমেন্টারি তৈরি হয়েছে বলে জানান চিত্র নির্মাতা মুর্তজা আতশ যমযম। তার কথায়ও অধ্যাপক শাওলির বক্তব্যের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেন, এ রকম ছবি আরো তৈরি হওয়া প্রয়োজন। এ ছবি নির্মাণে কোন সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে মুর্তজা আতশ যমযম বলেন, রোহিঙ্গাদের সমস্যার তুলনায় তার কোনো সমস্যাই হয় নি। একটি ছবি নির্মাণের বিশেষ করে ব্যক্তি পর্যায়ের নির্মাণের ক্ষেত্রে কষ্ট, শ্রম এবং সমস্যার কথা এ ভাবেই এড়িয়ে গেলেন তিনি।
চারুস কমপ্লেক্সর ৪ নং হলে চিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়া এবং ইয়েমেনকে নিয়ে নির্মিত আরো দু'টো ডকুমেন্টারি পরিবেশন করা হয়েছে।
পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৮