'বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উপযোগী ছবি ইরান থেকে পাওয়া যায়'
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i56524-'বাংলাদেশের_আন্তর্জাতিক_চলচ্চিত্র_উৎসবের_উপযোগী_ছবি_ইরান_থেকে_পাওয়া_যায়'
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য যে ধরণের ছবির প্রয়োজন তা ইরান থেকে নিয়মিত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন আহমেদ মুজতবা জামাল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বিশেষ এ ব্যক্তিত্ব রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
এপ্রিল ২৯, ২০১৮ ১৪:৪২ Asia/Dhaka
  • আহমেদ মুজতবা জামাল
    আহমেদ মুজতবা জামাল

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য যে ধরণের ছবির প্রয়োজন তা ইরান থেকে নিয়মিত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন আহমেদ মুজতবা জামাল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বিশেষ এ ব্যক্তিত্ব রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।

'তালারে ওহাদাত'

৩৬তম ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান কেন্দ্র ছিল ইরানের রাজধানী তেহরানের চারসু প্রাঙ্গণ । বৃহস্পতিবারে  (২৬ এপ্রিল) এখানে কথা হয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উৎসব-পরিচালক এবং রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহমেদ মুজতবা জামালের সঙ্গে।  ইতালি থেকে সরাসরি তেহরানে এসেছেন উল্লেখ করে নিজের ব্যস্ততার কথা বলে আগের দিন সাক্ষাৎকার দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তেহরানে তার আসার কথাও পূর্বে জানান নি। তাই চারসু প্রাঙ্গণে তাকে দেখে অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সে দিন কোনো ভাবেই কথা বলতে রাজী হলেন না। বৃহস্পতিবার চারসু প্রাঙ্গণে ঢোকার পর দু' দফা তার সঙ্গে দেখা হয়। নাছোড়বান্দার মতো লেগে থাকায় দ্বিতীয় দফায় সাক্ষাৎকার মেলে তার। তবে কেবলমাত্র দু'টো প্রশ্নের জবাব দিতে সম্মত হন তিনি। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ২৭ বছর ধরে ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ গ্রহণ করছেন। এরপর বলেন,  বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য যে ধরণের ছবির প্রয়োজন তা ইরান থেকে নিয়মিত পাওয়া যায় । ইরানি চলচ্চিত্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে যেয়ে তিনি বলেন, ইরানিরা চমৎকার কাজ করছে। একজন ইরানির ছবি দিয়ে এবারে ক্যান ফেস্টিভালের উদ্বোধন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইরানের চলচ্চিত্রের জন্য একে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আহমেদ মুজতবা জামাল এবং সিন্থিয়া ওয়ে

অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট লেখিকা সিন্থিয়া ওয়ে এই প্রথম ইরান সফর করছেন। শুরুতেই এ কথা জানান তিনি। ইরানি খাবারের ভক্ত সিন্থিয়া মুগ্ধ হয়েছেন,  ফজর চলচ্চিত্র উৎসবের একই প্রাঙ্গণে সব ছবি প্রদর্শনের আয়োজন দেখে। ছবি দেখার পাশাপাশি এখানে কেনা-কাটারও চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে দেখে খুবই ভাল লেগেছে তার। পাশাপাশি ব্রিজবেনের চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে ইরানের এই উৎসবের তুলনা করেন তিনি। তিনি বলেন, সেখানে গোটা নগরীর নানা প্রাঙ্গণে ছবি দেখানোর ব্যবস্থা রাখায় প্রচুর ছুটোছুটি করতে হয়।

রাতের ঐক্য হল

'তালারে ওহাদাত' বা ঐক্য হলটি চারসু থেকে দূরে নয়। তারপরও চারসু প্রাঙ্গণ থেকে বিদেশি মেহমানদের যাতায়াতের জন্য শাটল সার্ভিস রাখা আছে বলে জানান উৎসবে সেবার দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবীরা। নারী এবং পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত এ বাহিনীর লোকসংখ্যা ১৫০'এর বেশি ছিল। এদের সবারই আচার আচরণ অত্যন্ত ভাল। সবার মুখে হাসি লেগেই আছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিচ্ছেন না তারা। আচরণে কঠোর না হয়ে, মুখে হাসি বজায় রেখে সুচারুরূপে, সব ধরণের কর্কশতা এড়িয়ে দায়িত্ব পালনের উদাহরণ হিসেবে তাদের প্রত্যেককেই নিজেদেরকে নিপুণ ভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

শাটল সার্ভিসের মাইক্রো বাসে করে 'তালারে ওহাদাতে' যাওয়ার পথে আলাপ হয় ভারতের সিনেমা পরিচালক ভনিকা মিত্রার সঙ্গে। 'মিত্র' পদবী সাধারণ ভাবে বাংলাভাষী হিন্দুদের মধ্যে দেখা যায়। এ কথা বলতেই ভনিকা বললেন, তার বাবা  বাঙ্গালি আর মা পাঞ্জাবি। বড় হয়েছেন দিল্লিতে, থাকেন মুম্বাইয়ে। বাংলা বোঝেন তবে বলতে পারেন না। বণিক শব্দের হিন্দি রূপ ভনিকা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,  না। না। এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর অর্থ হলো বাঁশী। ইরানে এটাই প্রথম সফর বলেও জানান তিনি। তেহরান নগরীর সৌন্দর্য তার দারুণ ভালো লেগেছে। ফজর চলচ্চিত্র উৎসব সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মতো বলেও জানান তিনি। পূর্ণ সাক্ষাৎকার দিতেও সম্মত হয়েছিলেন কিন্তু সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আর সময় করে ওঠা সম্ভব যায়নি। এ ছাড়া, তার ছবি তোলার সুযোগও পাওয়া যায় নি।

ইরানের রাজধানী তেহরানের ' তালারে ওহাদাত'  বা ঐক্য হলে সমাপনী অনুষ্ঠানে মাধ্যমে  ৩৬তম ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হয়। তালারে ওয়াহাতে ঢোকার পথে লাল কার্পেটে সংবর্ধনা জানানো হয় অতিথিদের।  এ সময় এখানে প্রচুর ছবি তোলেন এক ঝাঁক আলোকচিত্রী।

এক ঝাঁক আলোকচিত্রীর একাংশ

মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৬তম ফজর আন্তর্জাতিক উৎসবের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা। তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় পুরষ্কার। এবারে যারা পুরষ্কার পান তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, রামতিন লাব্বাফি।  সিনেমা স্যালভেশন হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক সিনেমা প্রতিযোগিতায়  ইরানের হ্যাটট্রিক ছবির জন্য সেরা চিত্রনাট্যের পুরষ্কার জয় করেন তিনি। একই বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার জয় করেন ইরানের হ্যাটট্রিক ছবির মাহোর আলভান্দ। অন্যদিকে ড্রেসেজ ছবির জন্য বেস্ট ফার্স্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড জয় করেন ইরানের পুইয়া বাদকোবে। পিস প্রাইজ ফর লাইফটাইম অ্যাচিভেমেন্ট পেলেন কম্বোডিয়ার রিথি পান। বিওন্ড দ্যা ক্লাউড ছবির জন্য মোহাম্মদ আল আমিন পুরষ্কার লাভ করেন ইরানের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য পরিচালক মাজিদ মাজিদি।   অনুষ্ঠানে এ ছাড়া আরো অনেকেই পুরষ্কার পেয়েছেন। 

কনসার্ট চলছে

 

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ হয় ইতালির কম্পোজার নিকোলা পিয়োভানির   অপূর্ব কনসার্টের মধ্য দিয়ে।

 

পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৯