ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইরান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি দখলদার ইসরাইলের হাতে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে অনেক বড় বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে এ কথা বলেছেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, "জাতিসংঘ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র উচিত মজলুম ফিলিস্তিনের সমর্থনে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।" এ টেলিফোন সংলাপে তুরস্কের প্রেসিডেন্টও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বর্বর গণহত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, আমেরিকার সমর্থন ছাড়া ইসরাইল এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি।
ওআইসি'র বর্তমান সভাপতি হিসেবে তুরস্ক গত সোমবার ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি গণহত্যার বিষয়ে আলোচনার জন্য ইস্তাম্বুলে এই জোটের জরুরি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী ইরানও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ ও ষড়যন্ত্র নস্যাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইল গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা চালানোর পর অবৈধ এ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এগিয়ে আসা মুসলিম দেশগুলোর জন্য আগের চেয়ে আরো জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে মুসলিম দেশগুলো যদি অবহেলা করে তাহলে এর পরিণতি কারো জন্য মঙ্গলজনক হবে না। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের প্রতিবাদে বিশ্বের দেশগুলো বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো থেকে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার করা উচিত।
ইসরাইলি সেনারা বায়তুল মোকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের দিনে গাজায় বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে ৬২ জনকে শহীদ করে এবং আহত হয় প্রায় তিন হাজার ফিলিস্তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেয়েই ইসরাইল ওই বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।
গাজায় ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ইসরাইলি হত্যাকাণ্ড বিশ্ববাসীকে আবারো অবরুদ্ধ এ অঞ্চলের মানুষের অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। গাজায় হামাসের রাজনৈতিক দফতরের প্রধান ইয়াহিয়া আল সানোয়ার ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের ব্যাপারে বলেছেন, 'ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের ব্যাপারে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।"
দখলদার ইসরাইল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কয়েকটি আরব দেশের সমর্থন নিয়ে ফিলিস্তিনিদেরকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ তাদের ওই পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের অব্যাহত প্রতিরোধ আন্দোলন ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বর্বরতা ফিলিস্তিনিদের মনোবলকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে যা কিনা আমেরিকা ও ইসরাইলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/আশরাফুর রহমান/১৭