যেসব কারণে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী পাকিস্তানের ইমরান খান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i60605-যেসব_কারণে_ইরানের_সঙ্গে_সম্পর্ক_জোরদারে_আগ্রহী_পাকিস্তানের_ইমরান_খান
পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ- পিটিআই দলের প্রধান ও নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা বিস্তারে তার গভীর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ০৫, ২০১৮ ১৩:৪৮ Asia/Dhaka

পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ- পিটিআই দলের প্রধান ও নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা বিস্তারে তার গভীর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

তিনি পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাহদি হোনারদুস্তের সঙ্গে সাক্ষাতে তার এ আগ্রহের কথা জানান। ইমরান খান বলেন, তার সরকার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ইরানসহ প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবে।

পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ-পিটিআই দল জাতীয় নির্বাচনে বিজয় লাভ করলেও একক সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন পায়নি। এ কারণে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট বা এমকিউএম-এর সঙ্গে পিটিআই'র সমঝোতা হয়েছে এবং খুব শিগগিরি তারা জোট সরকার গঠনের কাজ শুরু করবে। ইমরান খান কিছু দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন এবং এর আগেই তিনি ইরানসহ প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তারের বিষয়ে তার সরকারের আগ্রহের কথা জানালেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তার কয়েকটি দিক থেকে পাকিস্তানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ইরান, আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত। একমাত্র ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের উত্তেজনা চলে আসছে দশকের পর দশক ধরে। এ কারণে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তার ভূ-কৌশলগত দিক থেকে পাকিস্তানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, ইরানের বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের খনি রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানেরও বিদ্যুতসহ জ্বালানির ব্যাপক চাহিদা থাকায় ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তারের বিষয়টি তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তৃতীয়ত, এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানের সহযোগিতা পাকিস্তানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাফিস জাকারিয়া বলেছেন, "সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ইরান ও পাকিস্তানের সহযোগিতার অন্যতম একটি দিক। এ ক্ষেত্রে দু'দেশের সহযোগিতা এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরাট ভূমিকা রাখবে।" পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, জ্বালানি বিশেষ করে গ্যাস ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাস্তবতা হচ্ছে, জীবনমান ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য পাকিস্তানের ব্যাপক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এ কারণে ইরানও পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেছে। কিন্তু পাকিস্তানের আগের সরকারগুলো আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়ায় ইরান থেকে গ্যাস কেনার পরিকল্পনা আজো বাস্তবায়ন করেনি। এ অবস্থায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তারে আগ্রহ প্রকাশ করায় গ্যাস সরবরাহ চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যাইহোক, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ী ইমরান খানের প্রতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক শুভেচ্ছা জানানো থেকে বোঝা যায়, এ অঞ্চলে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইমরান খানেরও উচিত এ সুযোগকে কাজে লাগানো এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দেশটির জনগণের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ করা।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫