ইরানের প্রেসিডেন্টের তুরস্ক সফর: আর্থ-রাজনৈতিক সহযোগিতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গতকাল আঙ্কারা সফরে গেছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে উচ্চপদস্থ একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলও তুরস্কে গেছে। এটি হবে প্রেসিডেন্ট রুহানি ও এরদোগানের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের পঞ্চম শীর্ষ বৈঠক।
গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ইস্যুতে দু'দেশের সম্পর্কের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রেসিডেন্ট রুহানির তুরস্ক সফরের মধ্য দিয়ে। সে সময় দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্য বিনিময়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩০০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের চারটি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমঝোতা হয়েছিল। এবারের বৈঠকও আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের সুযোগ এনে দিয়েছে এবং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু'দেশের মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আরো সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু বাধাও রয়েছে যা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে নিরসন করা জরুরি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান দু'দেশের সহযোগিতা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠককে তেহরান-আঙ্কারা সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, তুর্কি গণমাধ্যমগুলো মন্তব্য করেছে, সিরিয়ার সংবিধান বিষয়ক কমিটির কার্যক্রমের ব্যাপারে জেনেভায় ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানির আঙ্কারা সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র আলী নাজাফি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট ও বিপদজনক পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের তুরস্ক সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে উল্লেখ করে বলেছেন, এই সফর এ অঞ্চলের দেশগুলোতে বিদেশীদের হস্তক্ষেপ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিন বলেন, ইরান সবসময়ই আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংলাপ ও সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান ও তুরস্কের মধ্যে অর্থনৈতিক ছাড়াও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। আমেরিকা যখন কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে তখন ইরান ও তুরস্কের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা ও স্থানীয় মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত চুক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ ব্যাপারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ব্যবসায় স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার দু'দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা তেহরান-আঙ্কারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকা। এ অবস্থায় আর্থ-রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ দেশগুলোর অভিন্ন নীতি অবস্থান শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে। ইরানের প্রেসিডেন্টের তুরস্ক সফরের মাধ্যমে এ দেশগুলোর মধ্যকার সহযোগিতা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুড/রেজওয়ান হোসেন/২০
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন