ইরান বিরোধী জোট গঠনের প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ইসলামি সরকারকে উৎখাত কিংবা দুর্বল করার জন্য প্রকাশ্যেই উঠেপড়ে লেগেছে। এ লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি যাতে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে ইরানকে দারিদ্রতা ও অশান্তি দিকে ঠেলে দেয়া যায়।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ২০১৭ সালের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির আলোকে এমন এক আঞ্চলিক জোট গঠনের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলীতে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনা কিংবা দেশটির ভূমিকাকে খর্ব করা যায়। এ ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একটি রেডিওকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইসরাইল ও আরব দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াশিংটন ইরান বিরোধী জোট গঠনের চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, সাবেক ওবামা সরকার পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে শরীক হিসেবে মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওবামার ঠিক বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের ব্যাপারে ওবামার নীতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও'র দাবি আসলে বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ ইরানকে শরীক হিসেবে মেনে নেয়াতো দূরের কথা বরং প্রেসিডেন্ট ওবামা ইউরোপের সহযোগিতায় ইরানকে অচল করে দেয়ার জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিলেন যাতে তেহরানকে ওয়াশিংটনের অন্যায় নীতির কাছে মাথা নত করতে বাধ্য করা যায়। তাতেও ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের জুনে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সই হয়।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। যার অন্যতম একটি দিক হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাব মোকাবেলায় দেশটির বিরুদ্ধে জোট গঠনের চেষ্টা। এই জোট গঠনের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও দখলদার ইসরাইল বড় ভূমিকা রাখছে। এ ব্যাপারে মাইক পম্পেও বলেছেন, আমরা পশ্চিম এশিয়ায় এমন এক অবস্থা তৈরি করেছি যাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে একে অপরকে সহযোগিতা করে। তিনি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সফরের প্রাক্কালে ইরানকে ১২টি শর্ত দিয়েছিলেন যার অন্যতম হচ্ছে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং পশ্চিম এশিয়ার ব্যাপারে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা চায় ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করুক। কিন্তু এর ফলে ইরানের শুধু যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে তাই নয় একই সঙ্গে দেশটির নীতি আদর্শও বিসর্জনে যাবে। ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছরের ইতিহাসে ইরান কখনোই আমেরিকার কাছে মাথা নত করেনি। এ কারণে পম্পেও বলেছেন, ইরানের উচিত একটি সাধারণ দেশের মতো আচরণ করা। তার দৃষ্টিতে সাধারণ দেশের অর্থ হচ্ছে, সৌদি আরবের মতো ইরানেরও উচিত আমেরিকার প্রতিটি দাবি মেনে নেয়া।
যাইহোক, ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য আমেরিকা যে চেষ্টা করছে তার ফলে ইরানিদের মধ্যকার ঐক্য আরো জোরদার হবে এবং তাদের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা আরো জোরদার হবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪