ইরানে বিশ্ব কুদস দিবস পালিত: ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ প্রত্যাখ্যান
ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্বের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন ও ফিলিস্তিনি জাতির ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আজ (শুক্রবার) ইরান জুড়ে বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হয়েছে। সারাদেশে কুদস দিবসের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন লক্ষ-কোটি জনতা।
জুমার নামাজের আগে ইরানের ৯৫০টির বেশি শহরে একযোগে কুদস দিবসের শোভাযাত্রা বের হয়। শহরগুলোর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জুমার নামাজের ময়দান পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এসব শোভাযাত্রা থেকে ইসরাইল ধ্বংস হোক, আমেরিকা নিপাত যাক, বিশ্বাসঘাতক আলে সৌদ সরকার ধ্বংস হোক বলে স্লোগান দেয়া হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনি জাতির অধিকার ধ্বংসকারী আমেরিকার কথিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক আরব দেশগুলোর তীব্র নিন্দা জানান। তারা ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও জেরুজালেম আল-কুদসের মুক্তি কামনা এবং আমেরিকাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেন।
ইরানে কুদস দিবসের শোভাযাত্রার খবর সংগ্রহের জন্য আজ চার হাজার সংবাদকর্মী নিয়োজিত ছিলেন যাদের মধ্যে ২৫০ জন ছিলেন বিদেশি।
কুদস দিবসের শোভাযাত্রা শেষে এক ইশতেহারে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্বের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি আমেরিকার ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করা হয়। সেইসঙ্গে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কিছু আরব দেশের পক্ষ থেকে বাহরাইনে সম্মেলন আয়োজনেরও নিন্দা জানানো হয়।
বিশ্ব কুদস দিবসের শোভাযাত্রায় সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, পার্লামেন্ট স্পিকার আলী লারিজানি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফসহ শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরিতে যা আছে: ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার চিরতরে নির্মূল করে দেয়ার লক্ষ্যে আমেরিকা ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি বা কথিত ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ নামক পরিকল্পনা তৈরি করেছে। সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ এই পরিকল্পনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
এই পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ এখানো প্রকাশিত হয়নি। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, এই পরিকল্পনায় আল-কুদসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের হাতে ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মাতৃভূমিতে ফিরে আসার অধিকার চিরতরে খর্ব করা হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক পরিকল্পনায় আরো বলা হয়েছে, জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার যতটুকু অংশে এখন ফিলিস্তিনিরা ঘেরাও হয়ে রয়েছে ততটুকু অংশ নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে।#
পার্সটুডে/মো. মুজাহিদুল ইসলাম/৩১