মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর সময়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর ইরান সফরের গুরুত্ব
-
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মাহদির নেতৃত্বে সেদেশের একটি উচ্চ পদস্থ প্রতিনিধি দল গতকাল তেহরান সফরে আসেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মাহদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন ইস্যুতে যেসব চুক্তি বা সমঝোতা হয়েছে তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
আদিল আব্দুল মাহদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান-ইরাক সহযোগিতা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দু'দেশের জনগণের স্বার্থে দ্রুত বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়ন ও তা রক্ষার চেষ্টা করা উচিত। তেহরানে ইরান ও ইরাকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান স্পর্শকাতর সময়ে এ সংক্রান্ত আলোচনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ অঞ্চলে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এটা আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিরোধ নিরসনে ভূমিকা রাখবে। ইরান সফরের আগ মুহূর্তে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মাহদি আল জাজিরা টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, "তিনি নিজে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান উত্তেজনা প্রশমনে প্রচেষ্টা চালাবেন।"
ইরাক সরকার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সৃষ্টির নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টিতে বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "ইরাক কখনোই ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় শামিল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।"
আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির জন্য গত এক বছরে বহু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু তাতেও আমেরিকার লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা ইরানের ব্যাপারে এ পর্যন্ত অসংখ্য ভুল করেছে এবং তাদেরকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, "তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চায় এবং তারা কখনোই আগে যুদ্ধ শুরু করবে না।" তিনি আরো বলেন, "অতীতকাল থেকে এবং এখনো ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরের নিরাপত্তা রক্ষা করে আসছে।
ইরান ও ইরাক দুই ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ এবং এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এ দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কারা এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে সেটাই প্রশ্ন। আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি ও ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য অনেকাংশে দায়ী।
ইরান সবসময়ই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এ লক্ষ্যে দেশটি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বিস্তারের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান যে সাহসী ভূমিকা রেখেছে তা এরই আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইরান ও ইরাক ভূমিকা রাখতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩