ইরান ইস্যুতে ফ্রান্স-মার্কিন তীব্র বাদানুবাদ: ট্রাম্পের বক্তব্যে ম্যাকরনের কড়া জবাব
-
ইমানুয়েল ম্যাকরন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা ও উগ্র নীতির কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যকার মতবিরোধ এখন তুঙ্গে উঠেছে। পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আচরণকে কেন্দ্র করে মূলত এ বিরোধ চলছে।
তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে দেয়ার পর ফরাসি সরকারও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, ইরানের সঙ্গে সংলাপে বসতে তার দেশ তৃতীয় কোনো পক্ষের অনুমতি নেবে না। এক টুইটার পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনকে তিরস্কার করে বলেন, আলোচনার জন্য তিনি আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানকে কোনো সিগন্যাল দিতে পারেন না এবং ইরান ও আমেরিকার ভেতরে মধ্যস্থতা করার জন্য কাউকে কর্তৃত্ব দেয়া হয় নি। ম্যাকরনের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ বক্তব্যের ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স সরকার। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লা দ্রিয়াঁ ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংলাপে বসতে তার দেশ তৃতীয় কোনো পক্ষের অনুমতি নেবে না। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, "ইরানের ব্যাপারে কথা বলার সময় ফ্রান্স সম্পূর্ণভাবে নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে। ফ্রান্স পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে এবং এ অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা চালাতে প্যারিস কারো অনুমতি নেবে না।" একইসঙ্গে তিনি পরমাণু সমঝোতা রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুবার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তেহরান প্রতিবারই আলোচনার বিরোধিতা করে একে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সমাজকে ধোঁকা দেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরান মনে করে আলোচনার নামে আমেরিকা আসলে তাদের ইচ্ছাকে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে যা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। ইরান আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হোয়াইট হাউজ কার্যত অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন এতোটাই ব্যাকুল হয়ে আছে যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় জারিফের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে হোয়াইট হাউজ।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমেরিকা বিরোধী অবস্থান থেকে বোঝা যায়, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো পরমাণু সমঝোতাসহ আরো অনেক বিষয়ে ট্রাম্পের নীতি ও ইচ্ছার সঙ্গে তারা একমত নয়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যাকরন যদিও মনে করেন, পরমাণু চুক্তিতে কিছু কমতি রয়েছে কিন্তু সেটাও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। ম্যাকরন সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গে টেলিফোনে কথাবার্তা বলা ছাড়াও দুইবার তেহরানে তার উপদেষ্টাকে পাঠিয়েছেন।
ইরান প্রসঙ্গ ছাড়াও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ন্যাটো, বাণিজ্যসহ আরো বহু বিষয়ে ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। এ অবস্থায় ইরানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইট বার্তা থেকে বোঝা যায় তিনি ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দকে গুরুত্ব দেননা এবং তাদেরকে মার্কিন তাবেদার বলে মনে করেন। কিন্তু ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশগুলো মনে করে তাদের জাতীয় স্বার্থ আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা উভয়ের স্বার্থের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০