পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় ইউরোপের কথা ও কাজে ব্যবধান অনেক
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i72774-পরমাণু_সমঝোতা_রক্ষায়_ইউরোপের_কথা_ও_কাজে_ব্যবধান_অনেক
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ফ্রান্সের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় ফ্রান্স ইরানকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে বলে যে খবর বেরিয়েছে সে ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেছেন। সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি আরো বলেন, "সম্প্রতি ইরান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে টেলিফোনে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে কিন্তু পরমাণু বিষয়ে তাদের মধ্যে নীতিনির্ধারনী কোনো কথা হয়নি।"
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ১৩, ২০১৯ ১৪:১৩ Asia/Dhaka
  • সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি
    সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ফ্রান্সের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় ফ্রান্স ইরানকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে বলে যে খবর বেরিয়েছে সে ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেছেন। সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি আরো বলেন, "সম্প্রতি ইরান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে টেলিফোনে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে কিন্তু পরমাণু বিষয়ে তাদের মধ্যে নীতিনির্ধারনী কোনো কথা হয়নি।"

আমেরিকার আল মনিটরসহ আরো কয়েকটি গণমাধ্যম খবর দিয়েছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে ইউরোপের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করার জন্য ইনসটেক্স নামক যে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করার কথা এর আগে জানানো হয়েছিল ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে টেলিফোনালাপে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন তা চালু করার জন্য ১,৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করেছেন। এ ছাড়া, তিনি শিল্পোন্নত সাত জাতি গ্রুপের বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানান।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা পরমাণু সমঝোতা রক্ষার ওপর জোর দিলেও তারা এখনো এই চুক্তিতে উল্লেখিত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। তবে আশার কথা হচ্ছে, ইরান ও পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ফ্রান্স ও জার্মানির বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে যা থেকে আমেরিকা ও ইউরোপের সম্পর্কে ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্স সরকার গঠনমূলক সংলাপ চায় কিন্তু তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হবে কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। কারণ আমেরিকা সর্বশেষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, পরমাণু সমঝোতায় সইকারী আমেরিকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ সকল আন্তর্জাতিক চুক্তি পদদলিত করেছে এবং বিশ্বের কারো প্রতি ওয়াশিংটনের আস্থা নেই। ফরাসি প্রেসিডেন্টও এ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কয়েক দফা টেলিফোন সংলাপে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন পরমাণু সমঝোতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে এই চুক্তিতে অটল থাকার জন্য ইরানের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয়দের চোখ মেলে দেখার সময় এসেছে উল্লেখ করে ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, "আমেরিকার কাছ থেকে স্বাধীন থাকার জন্য ইউরোপের নতুন অর্থ ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে আমরা আমাদের কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে চাই।"

ফরাসি অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, পরমাণু সমঝোতার প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন রয়েছে ইউরোপীয়দের বিশেষ করে ফ্রান্সের। কিন্তু ইরানের ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতিই তারা বাস্তবায়ন করেনি এবং প্যারিসের কথা ও কাজের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। এমনকি ইউরোপ ইন্সটেক্স ব্যবস্থা চালুর যে কথা বলছে তার সঙ্গেও তাদের কথা ও কাজের মিল নেই। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩