ইয়েমেনে বেকায়দায় সৌদি ও তার মিত্ররা: তেহরানে অনুষ্ঠিত হল বহুপক্ষীয় বৈঠক
-
ইয়েমেন ইস্যুতে তেহরানে বহুপক্ষীয় বৈঠক
রাজনৈতিক উপায়ে ইয়েমেন সংকট সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানে বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল ইউরোপীয় দেশগুলো যেমন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি প্রতিনিধিরা এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল, ইয়েমেনের আনসারুল্লা আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া, আরো কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতগণও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তেহরান বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা ইয়েমেনের আর্থ-রাজনৈতিক, মানবিক ও যুদ্ধ পরিস্থিতির ব্যাপারে তারা তাদের সরকারের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে তারা যতদ্রুত সম্ভব ইয়েমেন যুদ্ধের অবসান এবং রাজনৈতিক উপায়ে এই সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আমেরিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরো কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় সৌদি আরব গত চার বছরের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনকে আকাশ, স্থল ও সমুদ্র পথে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে নৃশংস সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হামলায় এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ইয়েমেনি নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরো হাজার হাজার মানুষ। এ ছাড়া, লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে।
ইয়েমেনের ব্যাপারে এখন দুটি বিষয় খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রথমত, ইয়েমেনে সৌদি ও আমিরাতি হামলা জনগণের জন্য বয়ে এনেছে মহাবিপর্যয়। বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গেছে, ইয়েমেনের ২২টি প্রদেশের মধ্যে ২০টি প্রদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের জন্য দ্রুত মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
দ্বিতীয় জরুরি বিষয়টি হচ্ছে, ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা প্রক্রিয়া জোরদার করা। এর জন্য দরকার জাতিসংঘের সহযোগিতায় বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতা। এ দুটি জরুরি বিষয়কে সামনে রেখে তেহরানে ইয়েমেন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সংঘাত অবসানের সুযোগ এনে দিতে পারে। কিন্তু এর সুফল কেবল তখনই পাওয়া যাবে যদি ইয়েমেনকে খণ্ড-বিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি তেহরান সফরকারী ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের দেয়া সাক্ষাতে ইয়েমেনকে খণ্ড-বিখণ্ড করার জন্য সৌদি-আমিরাতি ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "এই ষড়যন্ত্র অবশ্যই রুখে দিতে হবে এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে হবে।"
তবে, ইয়েমেনের জনগণ ও সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের ষড়যন্ত্র এখন পর্যন্ত ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তা সত্বেও তারা ইয়েমেনকে নতজানু করতে পারেনি। বরং ইয়েমেনিরা উল্টো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে শত্রুদেরকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছে। সৌদি আরব ও তাদের মিত্ররা বেকায়দায় অবস্থায় রয়েছে।
এ অবস্থায় তেহরানে অনুষ্ঠিত ইয়েমেন বিষয়ক বহুপক্ষীয় বৈঠক ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮