মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের অংশ হিসেবে ইরানের জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা
-
\\\'আদ্রিয়ান দরিয়া\\\' তেলবাহী জাহাজ
আমেরিকা হুমকি মোকাবেলা ও নিজের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে এটাকে ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমেরিকা কোন স্বার্থ রক্ষা করতে চায় এবং কি ধরনের হুমকির আশঙ্কা করছে সেটাই এখন প্রশ্ন।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গতকাল হুমকি দিয়ে বলেছে, ইরানের 'আদ্রিয়ান দরিয়া' তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং কোনো দেশ যদি এই জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করে তাহলে ওই দেশগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দফতর আজ ইরানের ওই তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকি তারা ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন অখিলেশ কুমারকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ফেলেছে।
প্রায় দুই মাস আগে ব্রিটিশ নৌবাহিনী জিব্রাল্টার প্রণালীতে ইরানের তেলবাহী ওই জাহাজ বেআইনিভাবে আটক করেছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশে জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জাহাজটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আগে এ জাহাজের নাম ছিল 'গ্রেস-ওয়ান'। কিন্তু মুক্তির পর ইরান জাহাজটির নতুন নাম রাখে 'আদ্রিয়ান দরিয়া' এবং ইরানের পতাকা বহন করে জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছে।
লন্ডনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হামিদ বাইদি নেজাদ এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, লন্ডনস্থ ইরানের দূতাবাস সমুদ্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এর সদস্যদেরকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, "আমেরিকা ইরানের তেলবাহী জাহাজ ও এর নাবিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমুদ্র নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।"
আমেরিকা কেবল বেআইনি নিষেধাজ্ঞা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। ব্রিটিশ দৈনিক ফিনানসিয়াল টাইমস লিখেছে, মার্কিন সরকারের ইরান বিষয়ক প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক ইমেইলে ইরানি জাহাজের ভারতীয় নাবিককে লেখা চিঠিতে বলেছেন, জাহাজটি যেদিকে যাচ্ছে সেদিকে না গিয়ে যেন সে অন্য কোনো দেশের দিকে নিয়ে যায় এবং আমেরিকার কথামত যেন জাহাজটিকে থামিয়ে রাখে। ব্রায়ান হুক ওই নাবিককে আরো বলেছেন, "আমাদের কথা মেনে চলে আমেরিকার কাছ থেকে অর্থ নাও এবং বাকী জীবন আরাম আয়েশে কাটাও। কিন্তু যদি ওয়াশিংটনের কথা মত না চল তাহলে সরাটা জীবন পস্তাতে হবে এবং তোমার জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠবে।"
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ টুইট বার্তায় লিখেছেন, "আমেরিকা জলদস্যুতায় ব্যর্থ হয়ে এখন সরাসরি ঘুষের আশ্রয় নিয়েছে। তারা হুমকি দিচ্ছে ইরানের তেল হয় আমাদেরকে দাও এবং লাখ লাখ ডলার অর্জন কর অথবা তুমি নিজেই নিষেধাজ্ঞার জ্বালা ভোগ কর।"
পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা ফের ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং বলেছে, এ চুক্তির কোনো মূল্য নেই। পর্যবেক্ষকরা ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক চুক্তি, নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য বিপদজনক বলে মনে করছেন। যাইহোক, আমেরিকার অপরাধযজ্ঞ শুধু ইরানের বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নেই। সব দেশের বিরুদ্ধেই আমেরিকা এ ধরণের আচরণে লিপ্ত। আমেরিকার সবার ওপর কর্তৃত্ব বা প্রভুত্ব খাটাতে চায়। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৭