ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করল এইচআরডব্লিউ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i74873-ইরানের_বিরুদ্ধে_মার্কিন_নিষেধাজ্ঞার_তীব্র_সমালোচনা_করল_এইচআরডব্লিউ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর মে মাসে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ আমেরিকার এ আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ৩০, ২০১৯ ১৩:১২ Asia/Dhaka
  • ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করল এইচআরডব্লিউ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর মে মাসে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ আমেরিকার এ আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এইচআরডব্লিউ গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, "মার্কিন অন্যায় নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জীবন রক্ষাকারী অতিজরুরি চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধপত্র ইরানে আসতে পারছে না।" আমেরিকা যদিও দাবি করেছে ওষুধসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আমেরিকা ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ইরানে ওষুধ রপ্তানি করতে পারছে না।"

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান সারা লি উইটসন বলেছেন, "মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তারা নাকি ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে অথচ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা-নীতির কারণে ইরানের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ওষুধ পাওয়ার ন্যায্য অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।"

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যে, তারা নুন্যতম মানবিকতারও ধার ধারছে না। তারা ওষুধ ও খাদ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি বলে দাবি করছে অথচ চলতি বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে আরো কিছু ওষুধের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা যাতে সেগুলো ইরানে প্রবেশ করতে না পারে।

পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সব রকম উপায় অবলম্বন করেছে। তেহরানের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নীতি হচ্ছে হুমকি ও বলপ্রয়োগ করা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ নীতির তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘে মানবাধিকার পরিষদের প্রতিবেদক ইদ্রিস জাজায়েরি বলেছেন, "আমি এ জন্য চিন্তিত ও বিস্মিত হচ্ছি যে, একটি দেশ আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার ওপর নিজের ক্ষমতা ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে অন্য দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আমেরিকা শুধু যে পরমাণু সমঝোতা রক্ষাকারী ইরানকে বিপদে ফেলেছে তাই নয় একইসঙ্গে তারা পরমাণু সমঝোতার অন্য পক্ষগুলোকেও বিপদে ফেলেছে।" জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, "আমেরিকা ইরানের সঙ্গে যা করছে তা অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের সুবাদে আমেরিকা তার মতের বিরোধী দেশগুলোকে নানাভাবে কষ্ট দিচ্ছে। প্রয়োজনে ওষুধের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা যাবে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও'র উত্থাপিত ১২টি প্রস্তাব মেনে নিতে তেহরানকে বাধ্য করা যাবে। এ কারণে তারা একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েই যাচ্ছে।

কিন্তু ইরান প্রমাণ করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানকে নতজানু করতে পারেনি। ইরানের কর্মকর্তারা বহুবার বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে তারা কোনো আলোচনায় যাবে না এবং ইরান এমন একটি দেশ যে কখনই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না।#   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০