শ্রোতাদের মতামত
রংধনু আসর সম্পর্কে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই শ্রোতার মূল্যায়ন
শিশু-কিশোরদের জন্য রেডিও তেহরানের সাপ্তাহিক পরিবেশনা রংধনু আসর। অনুষ্ঠানটি ছোটদের জন্য নির্মিত হলেও বড়রাও এ অনুষ্ঠানের সমান ভক্ত। গত ২৬ আগস্ট রংধনু আসরে পবিত্র কুরআন থেকে নেওয়া দুটি গল্প এবং কুরআন পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি গান প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই শ্রোতার অভিমত এখানে তুলে ধরা হলো:
প্রিয় মহোদয়, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগ থেকে ২৬ আগস্ট তারিখে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো হল- বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত, রংধনু আসর ও কথাবার্তা। নিংসন্দেহে রংধনু ওই দিনের সেরা অনুষ্ঠান। ছোট এবং বড়রা একসাথে এ অনুষ্ঠানটি শুনে থাকেন। তাই যেদিন রংধনু প্রচারিত হয়, সেদিন রেডিও তেহরানের শ্রোতাসংখ্যা বেড়ে যায়।
২৬ আগস্টের রংধনু আসরের উপস্থাপনায় ছিলেন গাজী আব্দুর রশিদ ও আকতার জাহান। তাঁদের উপস্থাপনা ভালো লেগেছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই গল্প সম্পর্কে কিছু কথা বলা হয়। আসলেই ঠিক কথা, গল্প সবাই ভালোবাসেন, পছন্দ করেন। গল্প শুনতে ও পড়তে সবারই খুব ভালো লাগে। আর তাই লেখক বা গল্পকাররা গল্প বলে পাঠক ও শ্রোতাদেরকে একদিকে মোহিত করেন, অন্যদিকে নিজের কথাটি সুকৌশলে তাদের মধ্যে প্রচার করেন। নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গী ও দর্শনকে গল্পের ভেতর দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। গড়ে তুলতে চেষ্টা করেন সুন্দর সমাজ।
আমরা জেনে আনন্দিত হলাম যে, পবিত্র কুরআনেও বেশ কিছু শিক্ষণীয় গল্পের অবতারণা করা হয়েছে। এসব গল্পের মাঝে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ, নবী-রাসুলদের নবুয়্যতের প্রমাণ, আখেরাতের প্রমাণ ও আল্লাহর অবাধ্যতার পরিণামসহ নানা বিষয় সুন্দর ও মার্জিতভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে। তবে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কাহিনিগুলো নিছক কল্পনাপ্রসূত কথাসাহিত্য নয়; এগুলো মানব জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনা।
এ সপ্তাহ'র রংধনু আসরে পবিত্র কুরআন থেকে নেয়া দুটি গল্প এবং মহাগ্রন্থ কুরআন নিয়ে একটি গান প্রচারিত হয়। দারুণ ভালো লেগেছে অনুষ্ঠানটি। এ থেকে উপভোগ করেছি ও শিখেছি। উল্লেখ্য যে, আজকের রংধনু অনুষ্ঠানটিও তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। আশরাফুর রহমান ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।
মহান আল্লাহ তার প্রতিটি সৃষ্টির বেঁচে থাকার জন্য ও সুস্থ থাকার জন্য নানারকম উপাদান ছড়িয়ে রেখেছেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্ট জীবের জন্য। রয়েছে ফলমূল, শস্য ও ফুল।
পবিত্র কুরআনে এক বাগান মালিকদের কথা রয়েছে। যারা বাগানের ফল গরীবদেরকে দিতে অস্বীকার করেছিল। পবিত্র কুরআনের সূরা কলম-এ ইয়েমেনের এক বাগান মালিকের কথার উল্লেখ রয়েছে। ইয়েমেনে ঐ বাগানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খুব দয়ালু। তিনি গরীবদেরকে দান করতেন। একসময় তিনি মারা গেলে তার ছেলেরা বাগানের মালিক হল। কিন্তু তার ছেলেরা ছিল নিষ্ঠুর। তারা দান না করতে সিদ্ধান্ত নিল। ফসল উঠার সময় গরীব লোকেরা সাহায্য না পেয়ে ফিরে গেল। এতে আল্লাহ ঝড়-বজ্র দ্বারা ঐ বাগানটিকে ধ্বংস করে দিলেন। ছেলেরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে তওবা করল। আল্লাহ দয়ালু। তিনি তাদের তওবা কবুল করলেন। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে আবার একটি বাগান দিলেন।
এরপর যে গল্পটি বলা হয়েছে সেটি হল- এক অহংকারী বাগান মালিকের গল্প। এটি সূরা আল-কাহাফে বর্ণিত আছে। অনেকদিন আগের কথা। দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু একসাথে বসবাস করত। এদের একজন প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক, অপরজন বিত্তহীন। অন্যদিকে ধনী লোকটি ছিল অহংকারী, আর গরীব বন্ধু ছিলেন ঈমানদার ও আল্লাহ-ভক্ত।
অহংকারী বাগান মালিক তার বন্ধুর সাথে অহংকার করে কথা বলত। তার ধন-সম্পদের বড়াই করত। আর ঈমানদার ব্যক্তি সবসময় আল্লাহর ওপর ভরসা করতেন। তাই তিনি অহংকারীর আচরণে অসন্তুষ্ট হলেন। একদিন দেখা গেল, অহংকারী ব্যক্তির বাগানের ফলমূল সব নষ্ট হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, আল্লাহর প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণের কারণেই তার এমনটি হয়েছে। তাই আমাদেরকে সবসময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে। আর কখনো অহংকার করা যাবে না।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে পবিত্র কুরআন পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি গান প্রচারিত হয়। গানের কথা লিখেছেন বিলাল হোসেন নুরী, সুর করেছেন মাহফুজ বিল্লাহ শাহী এবং গেয়েছেন শিশু শিল্পী আরশী, শেমন্তী, সারা, মিম, তাইফা ও তাদের সঙ্গীরা। গানটি আমাদের খুব খুব ভালো লেগেছে। এর কথা ও সুর ছিল অপূর্ব। চমৎকার এ গানটির জন্য রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগসহ সারেগামা একাডেমির সব শিশু শিল্পীদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ শাহাদত হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ- ২৩০০, বাংলাদেশ।
প্রিয় মহোদয়,
রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সকল কলাকুশলী ও শ্রোতাবৃন্দকে আমার অন্তরের ভালোবাসা ও প্রীতিময় শুভেচ্ছা জানাই। আশা করি সকলে ভালো আছেন, সুস্থ ও সুন্দর আছেন।
গত ২৬ আগস্ট সান্ধ্য অধিবেশনে 'রংধনু আসর' অনুষ্ঠানটি শুনে ভীষণ ভালো লাগল। যদিও এই অনুষ্ঠান শিশু-কিশোরদের জন্য। তবুও আমার বরাবরই প্রিয় এই অনুষ্ঠান। এ দিনের অনুষ্ঠানে কুরআন থেকে দু'টি গল্প পড়ে শোনানো হয়। গল্প পাঠে গাজী আব্দুর রশিদ ও আকতার জাহান ছিলেন অনবদ্য। অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেন আশরাফুর রহমান।
প্রথম গল্পে জানা যায়, একজন বৃদ্ধ তার বাগানে প্রচুর ফল হওয়ায় অতিরিক্ত ফল ফকির ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে দান করে দিতেন। তিনি মৃত্যুর আগে তার ছেলেদেরও সেই কাজ করার পরামর্শ দিয়ে যান। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার ছেলেরা এই কথার মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না। ফলে ফকির ও দরিদ্র মানুষেরা তাদের বাগান থেকে কিছু না পেয়ে ফিরে যেতে লাগল। হঠাৎ একদিন বজ্রপাতে বাগান নষ্ট হয়ে গেলে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারল। এ থেকে বুঝতে পারলাম- আমাদের উচিত অর্জিত সম্পদ বা অর্থের একটা অংশ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া। না হলে একদিন সবই হারিয়ে যাবে।
দ্বিতীয় গল্পে জানা গেল দুই বন্ধুর একজনের সুস্বাদু ফলে পরিপূর্ণ দুইটি বাগান ছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত অহংকারী। অপরপক্ষে দ্বিতীয় বন্ধুটি অত্যন্ত ঈমানদার মানুষ ছিলেন কিন্তু বিত্তবান ছিলেন না। ফলে বিত্তবান বন্ধুটি নিজের পরিস্থিতি নিয়ে গর্ব করলে দ্বিতীয় বন্ধু তাকে পরম সৃষ্টিকর্তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু তাতে বিত্তবান বন্ধুর অহংকার একটুও কমল না। দেখা গেল ঐ বাগান দুইটি ধ্বংস হয়ে গেল। বিত্তবান বন্ধু তখন মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা না রাখার জন্য আফসোস করতে লাগলেন। এই গল্প থেকে শিখতে পারলাম যে, আমাদের জীবনে সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়মিতভাবে আসে। সফল হলেই যদি আমরা অহংকারী হয়ে যাই বা মহান পালনকর্তার অবদান অস্বীকার করি তবে তা আমাদের পতন ডেকে আনবে।
এরপর কুরআন পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি গান পরিবেশন করে শিশুশিল্পীরা। গানটির কথা, সুর আমাদের মনকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে তোলে। শিশুশিল্পীদের কণ্ঠ ও সম্মিলিত পরিবেশনা ছিল অসাধারণ।
'রংধনু আসর' শিশু কিশোরদের জন্য শুধুমাত্র বিনোদনমূলক একটি অনুষ্ঠান নয়, এই অনুষ্ঠান থেকে তারা পাচ্ছে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা। তাদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করতে অনুষ্ঠানটির কোনো বিকল্প নেই। এই অনুষ্ঠানে পঠিত গল্পের নীতিশিক্ষাগুলো তাদের আজীবন কাজে লাগবে। এমন মনোমুগ্ধকর একটি অনুষ্ঠান পরিবেশন করার জন্য রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানাই।
শুভেচ্ছান্তে,
ভাস্কর পাল
মহেন্দ্রনগর অগ্রগামী ক্লাব
পোস্ট: নাটাগড় (সোদপুর), জেলা: উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।